ইউএসএল খেলা নিয়ে লিভারপুলকে খোঁচা

লিডস : ইউরোপিয়ান সুপার লিগের অংশ হওয়ায় আগামী মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নেই লিভারপুল। কিন্তু সুপার লিগ না হলে কি আগামী মরশুমে তাদের ইউরোপিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে দেখা যেত? সোমবার রাতে লিডস ইউনাইটেডের সঙ্গে ড্রয়ের পর জুর্গেন ক্লপের ছেলেদের নিয়ে এই প্রশ্নই উঠছে।

বিদ্রোহী লিগে নাম লেখানো ১২ ক্লাবের মধ্যে লিভারপুলই সবার আগে মাঠে নেমেছে। নেমেই অবশ্য লিডসের বিদ্রুপের মুখে পড়েছে তারা। এদিন ম্যাচের আগে লিডসের ফুটবলাররা বিশেষ জার্সি পরে অনুশীলন করেন। জার্সির সামনে লেখা ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে হলে যোগ্যতা দেখাও। অন্য পাশে লেখা ছিল ফুটবল সমর্থকদের জন্য। এমনকি এই জার্সির কয়েকটি লিভারপুলের সাজঘরেও রেখে দিয়েছিল লিডস।

- Advertisement -

লিডসের ইঙ্গিতটা স্পষ্ট, এভাবে কৌলিন্য দেখিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলে জাকিয়ে বসাটা ঠিক নয়। ক্ষমতা থাকলে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করে খেল। মাঠের ৯০ মিনিটেও পরিষ্কার, পরের মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ তো পরের কথা, লিভারপুল ইউরোপার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে কি না ঠিক নেই। এদিন সাদিও মানের গোলে এগিয়ে যায় গতবারের লিগজযীরা। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর গোল পেলেন সেনেগালের এই উইঙ্গার। শেষদিকে ডিফেন্ডার দিয়েগো লরেন্তের গোল লিডসকে এক পয়েন্ট এনে দেয়। এই ড্রয়ের পর ৩২ ম্যাচে ৫৩ পযে্ট নিয়ে ছয়ে লিভারপুল।

ম্যাচের পরেও সুপার লিগ নিয়ে প্রতিবাদী লিডস শিবির। দলের স্ট্রাইকার প্যাট্রিক বামফোর্ড বলেন, অন্যদের মতো আমরাও বিষয়টি দেখলাম। এধরণের পরিকল্পনা আমাদের অবাক করেছে। বিষয়টি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। এটা আমাদের কাছে বর্ণবিদ্বেষের মতোই ঘৃণ্য। আমরাও সমর্থকদের মতো এই ঘোষণা বিশ্বাস করতে পারছি না। জানি না ভবিষ্যতে কী হবে। তবে সমর্থকরা খুশি হয়নি আর ফুটবলে সমর্থকরাই শেষ কথা।

লিডসের পাঠানো জার্সি গায়ে দেননি লিভারপুলের কোনও ফুটবলার। তবে বিদ্রোহী লিগ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলের বর্ষীয়ান ফুটবলার জেমস মিলনার। তাঁর কথায়, আমি এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করছি না। আশা করছি এটার বাস্তবায়ন হবে না। এটা নিয়ে যে প্রতিবাদ হচ্ছে, তার অধিকাংশের সঙ্গে আমি সহমত। আদতে মিলনার লিডসেরই ছেলে। তাই সুপার লিগ ইস্যুতে শহরের ক্লাবের সঙ্গে তাঁর মতের মিল রয়েছে।