সংক্রমণের আবহে হাসপাতালে ঠাঁই, শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

188

শিলিগুড়ি : করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের নিয়ে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন। প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতাল এবং মেডিকেলের স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রামিত হওয়ার খবর মিলছে। এই পরিস্থিতিতে ওই শিশুদের যে হাসপাতালে রাখা নিরাপদ নয়, তা জানেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাই বাচ্চাদের স্পেশাল অ্যাডপশন এজেন্সির (সা) কাছে পাঠাতে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (সিডব্লিউসি) কাছে জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানিয়েছে। সেইমতো সিডব্লিউসির তরফে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও সেখান থেকে কোনও জবাব না মেলায় ওই শিশুদের অন্যত্র সরানো সম্ভব হচ্ছে না।

শিলিগুড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের পুলিশ ও প্রশাসন সিডব্লিউসির মাধ্যমে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভর্তি করে। এরপর সা-তে না যাওয়া পর্যন্ত শিশুদের সেখানেই রাখা হয়। এই মুহূর্তে জেলা হাসপাতালে চারটি শিশু রয়েছে। মেডিকেলেও কয়েকজন শিশু রয়েছে। কিন্তু যেভাবে প্রতিদিন ওই দুই হাসপাতালে সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে ওই শিশুগুলির সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যে জেলা হাসপাতাল থেকে জলপাইগুড়ি সিডব্লিউসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিংয়ে কোনও সিডব্লিউসি না থাকায় এই জেলার বিষয়টি জলপাইগুড়ির কমিটিই দেখে। অন্যদিকে সিডব্লিউসি সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও সেখান থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। তাই শিশুদের হাসপাতাল থেকে সরানো সম্ভব হয়নি।

- Advertisement -

তবে সা-তে শিশুদের সরানো নিয়ে সমস্যা রয়েছে বলে খবর। শিশুদের দত্তক দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় সা-গুলিতেও স্থানাভাব রয়েছে। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, রায়গঞ্জ ও বালুরঘাটে সা রয়েছে। এর মধ্যে কোচবিহারে কোনও জায়গা না থাকায় বাকি দুটির উপরে চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অনুমতি মিললেও ওই শিশুদের কোথায় সরানো হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সিডব্লিউসি। যদিও অবিলম্বে সমস্যা সমাধানের দাবি উঠেছে। এ প্রসঙ্গে জেলা হাসপাতালের সুপার অমিতাভ মণ্ডল বলেন, আমাদের এখানে চারটি শিশু রয়েছে। আমরা সিডব্লিউসিকে চিঠি দিয়ে ওদের নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি সিডব্লিউসির সদস্য সুবোধ ভট্টাচার্য বলেন, আমরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। সেখান থেকে নির্দেশ এলেই শিশুদের অন্যত্র নেওয়া হবে।