বাংলায় বাস করে বিহারে ভোট দেয় রহমতপুর গ্রামের বাসিন্দা

424

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ ব্লকের গৌরী পঞ্চায়েতের রহমতপুর গ্রামের বাড়িতে ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন সুরেফা বেগম। স্বামী আনোয়ার হক পরিযায়ী শ্রমিক। মুম্বইয়ে একটি কারখানার মজুর অথচ বিহারের বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের ভোটার। একইভাবে ওই গ্রামের আসরিফা খাতুন কিংবা মতিউর রহমান বা আব্দুল সামাদের মত অন্তত ২৫০ জন ভোটার সহ দেড় হাজার বাসিন্দার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের বিশাহারঘাট এলাকার কুলিক ও নাগর নদী পেরিয়ে রহমতপুর গ্রামে বাস করেন।

অদুরে বিহারের আবাদপুর থানা অথচ সুরেফা সহ প্রায় আড়াইশো পরিবার রায়গঞ্জ থানার বাসিন্দা। বিহারের প্রায় চার কিলোমিটার পথ ভেঙে বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চরখরা সকজিরা প্রাথমিক স্কুলের বুথে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন সুরেফাদেবী। ওইদিন বিহারের শেষ দফা ভোটে বলরামপুর কেন্দ্রের নির্বাচন। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেবেন তাঁরা। কিন্তু বাংলার নদীর ওপারে উত্তর দিনাজপুরের ভৌগোলিক সীমানায় অবস্থিত অনেক বাসিন্দা বিহারের ভোটার।

- Advertisement -

বস্তুত, গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কুলিক ও নাগর নদীর ওপারে রহমতপুর সহ গোয়ালদহ, যুগিয়ামের, দুবদুয়ার, অন্ততপুর, নয়াটোলি প্রভৃতি গ্রাম রয়েছে। তবে রহমতপুর ছাড়া বাকি গ্রামের বাসিন্দারা অবশ্য বাংলায় ভোট দান করেন। কিন্তু রহমতপুরের ১২৫ টি পরিবার বাংলার রায়গঞ্জ থানার বাসিন্দা সত্ত্বেও বিহারের আবাদপুর এবং বারসুই থানা এলাকায় রোজকার কাজে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। রহমতপুরের বছর পঞ্চাশের আসরিফা খাতুন নদী বাঁধে দাঁড়িয়ে বুধবার বলেন, ‘বাংলার এলাকায় থাকলে কি হবে, সব কাজে বিহারের সঙ্গে যোগাযোগ, তাঁর ভোটার হয়ে গিয়েছি বিহারের।‘

ভোটার কার্ড হাত নিয়ে সুরেফা বেগম বলেন, ‘আমি তো ভোট দেবই। ভোটের দিন সকালে স্বামী মুম্বই থেকে আসবে। তারপর ভোট দেওয়ার জন্য দলের লোক গ্রামে গাড়ি পাঠাবে।‘ ওই গৌরী পঞ্চায়েত গ্রাম সদস্য শেখ তৈবুর আলি অবশ্য এই ঘটনায় বেআইনি কিছু দেখছেন না। উলটে তিনি বলেন, ‘নামেই রহমতপুর রায়গঞ্জ ব্লকে। বাজার হাট কাজ কর্ম সবই বিহারের আবাদপুর থানা এলাকায় করতে হয়, তাই ভোটারও হয়ে গিয়েছি বিহারের।‘ গৌরী পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের সীমা মন্ডল অবশ্য বলেন, ‘নদীর ওপারে রহমতপুরে রায়গঞ্জ থানার বাসিন্দারা বাস করে। তবে কিছু বাসিন্দা বিহারের আবাদপুর থানায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে নদী পেরিয়ে বাংলায় আসা কঠিন হয়ে যায়। ভোটার তো বাংলার। তবে বিহারের ভোটার হওয়ার কথা নয়।