নেপাল-চিন সীমান্তে গ্রামপ্রধানদের স্যাট ফোন

396

নয়াদিল্লি : সীমান্ত-সংঘাত নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে সেনা পর্যায়ে বৈঠকের পর থেকে টানা এক সপ্তাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে দাবি করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরবনে। তিনি শনিবার বলেন, সেনা কমান্ডারদের মধ্যে একাধিকবার বৈঠকের পর ভারত ও চিন দুপক্ষই ধাপে ধাপে সেনা সরিয়ে নিয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে, তা অবিলম্বে মিটে যাবে। সেনাপ্রধানের কথায়, আমি বলছি, ভারত-চিন সীমান্তের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালাচ্ছি। দুপক্ষের কোর কমান্ডার স্তরে বৈঠক হয়েছে এবং নীচুতলার সেনাদের কাছেও সেই বার্তা পৌছে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে কোনও সমস্যা হয়নি। সূত্রে খবর, আলোচনার মাধ্যমে দুপক্ষের বিতর্কের নিষ্পত্তির ওপরই জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি। চিনাবাহিনীর বেশিরভাগ ইতিমধ্যে তিন কিলোমিটার সরে গিয়েছে। চিনের বার্তায় সাড়া দিয়ে বেশ কিছু সেনা প্রত্যাহার করেছে ভারতও। সীমান্তে নজরদারি রাখতে নতুন ব্যবস্থাও হয়েছে। পিথোরাগড় প্রশাসন উত্তরাখণ্ডের জেলা সংলগ্ন চিন ও নেপাল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ৪৯ জন গ্রামপ্রধানকে স্যাটেলাইট ফোন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ)-র তরফে গ্রামপ্রধানদের এই স্যাটেলাইট ফোনগুলি দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। বিএসএনএল সহ অন্য বাণিজ্যিক টেলিকম সংস্থাগুলি সীমান্ত এলাকায় এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারায় সেখানে ফোনের নেটওয়ার্ক খুব দুর্বল। এই কারণেই গ্রামপ্রধানদের স্যাটেলাইট ফোন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিথোরাগড় প্রশাসন। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, উঁচু-নীচু রাস্তার কারণে বিএসএনএল সহ অন্য টেলিকম সংস্থাগুলি মোবাইল টাওয়ার বসাতে পারেনি ওই এলাকায়। ফলে স্থানীয় গ্রামবাসীদের নেপালি সিমকার্ডের ওপর নির্ভর করতে হয়। পিথোরাগড়ের জেলাশাসক বিজয় কুমার যোগদণ্ডে জানিয়েছেন, ৪৯ জন গ্রামপ্রধানের মধ্যে ৩৪ জন ধারচুলা তহশিলের এবং বাকিরা মুনসায়ারির। ১৯টি স্যাটেলাইট ফোন দেওয়া হয়েছে ধারচুলার বিয়াস ও দরমা এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েতকে। শুক্রবার এই ফোন দেওয়া হয়েছে। বাকি ফোনগুলিও রবিবারের মধ্যে দেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, এই ফোনে প্রতি মিনিটে চার্জ উঠবে ১২ টাকা এবং প্রতি এসএমএসের জন্য ১২ টাকা করে চার্জ ধরা হবে। আন্তর্জাতিক কলের ক্ষেত্রে গ্রামবাসীদের প্রতি মিনিটে দিতে হবে ২৬০ টাকা। একই খরচ হবে এসএমএসেও।

দেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন না দাতু গ্রামের বাসিন্দা সালু দাতাল। তিনি বললেন, এখানে স্বাভাবিক পরিষেবার সমস্যা রয়েছে বলে গ্রামবাসীরা স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। নিজের দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায় না বলে ধারচুলার অনেককেই নেপালের সিমকার্ড ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু সেগুলো খরচসাপেক্ষ। গ্রামপ্রধান হায়াত সিং বলেন, স্যাটেলাইট ফোনের খরচ নিয়ে কিন্তু গ্রামবাসীরা উদ্বিগ্ন। তাই বিয়াস, দরমা ও চৌদ্দাস এলাকার ১৪ জন গ্রামপ্রধান মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র রাওয়াতকে স্মারকলিপি দিয়ে ফোনের কলরেট হ্রাস করার অনুরোধ করেছেন। তাঁদের আর্জি, আউটগোযিং কল রেট ২ টাকা এবং ইনকামিং কল বিনামূল্যে করার সুযোগ দেওয়া হোক।

- Advertisement -