চেন্নাই ফেরতকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে পাঠানো দাবি, আতঙ্কে যুবকের পরিবার

530

ফাঁসিদেওয়া, ৯ জুনঃ চেন্নাই ফেরত যুবককে হোম কোয়ারান্টিনে রাখা নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে ব্যপক আতঙ্ক দেখা দিল। ঘটনায় ভিন রাজ্য ফেরতের বড়িতে গিয়ে এলাকাবাসী হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। সোমবার রাতে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের কান্তিভিটা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এদিকে, ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালের দেওয়া স্লিপে ত্রিশ বছর বয়সি ওই যুবককে নিজের বাড়িতেই কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন নিয়ম অনুসারে করোনা সংক্রমিত ৫টি রাজ্য থেকে পরিযায়ীরা এলে, তাঁদের ৭দিনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে পাঠানো হবে। পরে আরও ৭দিন হাসপাতালের নজরদারিতে তাঁদের নিজেদের বাড়িতে রাখা হবে। করোনা উপসর্গ থাকলে, পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে৷ কিন্তু, বাকি রাজ্য থেকে পরিযায়ী এলে, তাঁদের ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বিমানে যে কোনও রাজ্য থেকে এলে, পরিযায়ীদের ১৪দিন হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে। যদি, করোনার উপসর্গ থাকে শুধুমাত্র সেক্ষেত্রেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে পাঠানো হবে। কিন্তু, এক্ষেত্রে ওই যুবক বিমানে চেন্নাই থেকে সোমবার বাড়িতে ফেরেন। সেজন্য তাঁকে হোম কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ফাঁসিদেওয়া ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। যুবকের দাদা জানিয়েছেন, তাঁর ভাই চলতি বছরের ১৪ মার্চ চেন্নাইতে হোটেলে কাজ করতে গিয়েছিলেন। লকডাউন শুরু হওয়ায় কাজ না থাকলেও, তিনি ফিরতে পারেননি। এরপর লকডাউন শিথিল হতেই, ৭ জুন রবিবার তিনি বিমানে বাড়ি ফেরেন। ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে গেলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হোম কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ভাইকে বাড়িতে আলাদা ঘরে রাখা হলেও, গ্রামবাসী প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে পাঠানোর জন্য জোর করছে। এমনকি হুমকিও দিচ্ছে। তাঁর ভাইকে প্রথমে পায়ে হাঁটিয়ে এবং পরে সাইকেলে চাপিয়ে কোয়ারান্টিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর করা হয়। ঘটনায় যুবকের পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। তাঁরা এই সমস্যার সমাধান চেয়েছেন। এদিন ফাঁসিদেওয়া থানর পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবককে লিম্বুটারি আইটিআই কলেজে নিয়ে যেতে চান। তবে, পরে ফাঁসিদেওয়ার ওসি সুজিত লামার নির্দেশে তাঁকে বাড়িতে আলাদা ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। ফাঁসিদেওয়া ব্লক মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অরুণাভ দাস জানিয়েছেন, ওই যুবকের শরীরে করোনার উপসর্গ নেই। তাই নিয়ম মেনে তাঁকে হোম কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অযথা বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর চিন্তিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে তিনি জানান।