অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ

310

হরিশ্চন্দ্রপুর: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ তুলে ওই কেন্দ্রের কর্মীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের ভালুকা মহলদারপাড়ার আইসিডিএস সেন্টারে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এদিন ওই সেন্টারে যে সমস্ত খাবার দেওয়া হচ্ছিল তা সরকারি নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম ও নিম্নমানের। ডাল বহুদিনের পোকাধরা, চালেও পোকা ও আলুতে পঁচা গন্ধ বেরোচ্ছিল। আমরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে আইসিডিএস কর্মী ও সহায়িকার কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাইনি। তাই বিক্ষোভ দেখানো হয়।

- Advertisement -

পাশাপাশি তাঁরা জানান, একদিকে এলাকায় করোনার আতঙ্ক। কাজকর্ম সব বন্ধ। নদীতে মাছ অমিল। মৎস্যজীবীদের রোজগার বন্ধ। বহু কষ্টে ঘরের ছেলেমেয়েরা অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এই সংকটজনক মুহূর্তে আইসিডিএস সেন্টারে কিছুটা পুষ্টিকর খাবার পেলে অনেকটাই সুবিধা হত। কিন্তু যে ধরনের সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে তা একদম খাবারের উপযোগী নয়। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছি। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন ওই সমস্ত খাদ্য সামগ্রী পাল্টে দিয়ে ভালো সামগ্রী দেওয়া হবে। অবশেষে এদিন প্রশাসনের আশ্বাসে বিক্ষোভ তুলে নেন স্থানীয়রা। তবে পরবর্তীতে খাদ্যসামগ্রীর পরিবর্তে ভালো খাবার না পেলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সেন্টারের কর্মী সুনীতি সাহা জানান, ‘এবারের চাল, ডাল খুব ভালো পাইনি। আমরা অভিযোগ করেছি। আমাকে যে ধরণের চাল ডাল দেওয়া হয়েছে আমি তাই বিলি করেছি। তাঁরা সেই সামগ্রী নেবেন না। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাছাড়া কম ওজন দেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের সমাজ কল্যাণ আধিকারিক অলোক মণ্ডল জানান, ভালুকা মহলদার পাড়ার আইসিডিএস সেন্টারে আজ সকালে বাসিন্দাদের নিম্নমানের খাবার দেওয়ার যে অভিযোগ তুলছেন তা খতিয়ে দেখে অবশ্যই পাল্টে দেওয়া হবে। তাছাড়া পাইকারি বাজারে আলু কিনতে গিয়ে অনেক সময় আলুর বস্তার ভিতরে দুই একটা আলু পঁচা বেরিয়ে যায়। আমরা কর্মীদের ভালো আলু দেওয়ার কথা বলেছি। ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এই বিষয়ে জেলা পরিষদের শিশু-নারী কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। এলাকাবাসীরা যে সমস্ত অভিযোগ করছেন তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।’