পাঁচ নদী থেকে প্রতিমার কাঠামো তুলছেন এক শ্রেণির মানুষ

241
ফালাকাটার চরতোর্ষা নদী থেকে কাঠামো তোলা হচ্ছে

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের দোলং, চরতোর্ষা, বুড়িতোর্ষা, সঞ্জয় ও শিলতোর্ষা নদীতে প্রচুর দুর্গা প্রতিমার বিসর্জন হয়েছে। তবে এবার টানা লকডাউন পরিস্থিতির কারণে আর্থিক মন্দার জেরে বিসর্জন পর্ব কাটতেই এই পাঁচ নদী থেকে দুর্গার কাঠামো তুলে নিচ্ছেন এক শ্রেণির মানুষ। প্রশাসন নয়, নদী সংলগ্ন এলাকার শ্রমিক শ্রেণির বাসিন্দাদের একাংশই ঝুঁকি নিয়ে কাঠামোগুলি তুলে নিচ্ছেন।

এইসব কাঠামো বিক্রি করেই তাঁদের পুজোর সময়ের আনন্দের ঘাটতি পূরণ হচ্ছে। এদিকে কয়েক বছর আগেও মাসের পর মাস কাঠামো পড়ে থাকায় এইসব নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হয়েছিল। এখন নদীয়ালি মাছেরও আকাল পড়েছে। কমেছে নদীর নাব্যতা। তাই এবার যাঁরা কাঠামো তুলে নিচ্ছেন, তাঁদেরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমী থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারা।

- Advertisement -

দোলং, চরতোর্ষা, বুড়ি তোর্ষা নদী ফালাকাটা ব্লকে আর সঞ্জয় ও শিলতোর্ষা নদী আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকে রয়েছে। ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়ক এই নদীগুলির উপর দিয়েই গিয়েছে। এই রাস্তাতেই তৈরি হচ্ছে চার লেনের মহাসড়ক। স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীদের কথায়, দশ বছর আগেও এই নদীগুলিতে সারা বছর নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। সব থেকে সুস্বাদু মাছ ছিল বোরোলি। কিন্তু প্রতিটি নদীই এখন মারাত্মকভাবে দূষণের শিকার। বর্ষাকালে কানায় কানায় পূর্ণ থাকলেও বছরের অন্যান্য সময় সেরকম জল থাকে না। প্রতিটি নদীরই নাব্যতা কমেছে। নদীর বাস্তুতন্ত্র ক্ষতির মুখে। নদী দূষণের নানা কারণের মধ্যে একটি অন্যতম হল প্রতি বছর ঘটা করে প্রতিমা বিসর্জন। দু-তিন বছর আগেও এইসব নদীতে মাসের পর মাস ধরে প্রতিমার কাঠামো পড়ে থাকতে দেখা যেত। কিন্তু এবার এই পাঁচ নদী কিছুটা হলেও দূষণের কবল থেকে রক্ষা পেল। এর মূলে রয়েছে লকডাউন পরিস্থিতির জেরে এক শ্রেণির মানুষের আর্থিক মন্দা।

ফালাকাটা ব্লকে এবছর দেড়শোরও বেশি দুর্গাপুজো হয়েছে। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকেও পুজোর সংখ্যা শতাধিক। মিলরোড চৌপথি, কিষাণ মান্ডি, সাইনবোর্ড মোড়, কাদম্বীনি চা বাগান এলাকা, রাইচেঙ্গা মাস্টার পাড়া, রাইচেঙ্গা, কালীপুর বাঁধের পাড়, বংশীধরপুর, কালীপুরের শিশাগোড়, শিশাগোড় মাস্টার পাড়া, নিউরোড, মোজবিল, পলাশবাড়ি, শিলবাড়িহাট, সাহেবপোঁতা, সোনাপুর সহ বিভিন্ন এলাকার ক্লাব, বারোয়ারি ও প্রত্যন্ত গ্রামের বাড়ির প্রচুর দুর্গা প্রতিমা সোম, মঙ্গলবার বিসর্জন হয়েছে। বিসর্জনের পরই কাঠামো তুলে নিচ্ছেন ফেসো মুন্ডা, চাঁদ ওরাওঁ, বাবুলাল দাসের মতো শ্রমিক শ্রেণির বাসিন্দারা। বাবুলাল বলেন, ‘এবার লকডাউনের জন্য উপার্জন কমেছে। আর্থিক মন্দাতেই পুজো কেটেছে। এই কাঠামো বিক্রি করে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ হবে।’ কালীপুরের মৃৎশিল্পী যতীন বলেন, ‘পুরোনো কাঠামো কেউ নিয়ে আসলেই আমরা কিনে নিই।’ পরিবেশপ্রেমী সুজিত সরকার এজন্য ওই শ্রমিকদের সাধুবাদ জানিয়েছেন। পলাশবাড়ির পূর্ব কাঁঠালবাড়ির উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, ‘পরিস্থিতির জেরেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ কাঠামোগুলি তুলে নিচ্ছেন। এরফলে নদী দূষণ অনেকটাই কমবে।’