প্রতিশ্রুতি মিললেও পাকা সেতু হয়নি, ভোট বয়কটের ভাবনা স্থানীয়দের

102

হেলাপাকড়ি: বামফ্রন্ট সরকার চৌত্রিশ বছরেরও দাবি পূরণ করেনি। তৃণমূল সরকারও দশ বছরে কথা রাখতে পারেনি। তাই বিধানসভা ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে এলাকাবাসীর ক্ষোভ ততই বাড়ছে। ময়নাগুড়ি ব্লকের পদমতি-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোশারফের ঘাটে ধরলা নদীতে পাকা সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। দইয়ারপাড়া, পাঠানডাঙ্গা, বালাসন, পূর্বহারমতী সহ সংলগ্ন আরও কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের ধরলা নদী পেরিয়ে, হাট-বাজার, স্কুল, কলেজ, হাসপাতালে যেতে হয়। নদী পারাপারে বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। দুর্বল সাঁকো পেরিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনওরকমে দুই পাড়ে যোগাযোগ রক্ষা হয়। বর্ষায় আবার নদীতে জল বাড়তেই সাঁকোও ডুবে যায়। তখন কলার ভেলা অথবা নৌকোর ওপর ভরসা করে চলতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নেতা, সাংসদ, বিধায়ক সবাই এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও আজও পাকা সেতু হয়নি। তাই এবার ভোট বয়কটের ভাবনা রয়েছে স্থানীয়দের।

এলাকার প্রবীণ ভোটার ষাটোর্ধ্ব শ্রীকান্ত রায় জানান, জন্মলগ্ন থেকেই এখানে পাকা সেতু হওয়ার কথা শুনে আসলেও এখনও পাকা সেতু হল না। বামফ্রন্ট সরকার চৌত্রিশ বছরে পারেনি। তৃণমূল সরকারও প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছে। কিন্তু দশ বছর পরও প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি। সেই লজ্জায় এখনও পর্যন্ত কোনও নেতা এলাকায় ভোট প্রচারের আসেননি। বৃদ্ধা ভাগ্যমনি রায় জানান, প্রত্যেকবার পাকা সেতুর আসায় ভোট দিয়েও কোনও লাভ হয় না। তাই কাজ না দেখে এখনও পর্যন্ত ভোট দেওয়ার আর ইচ্ছে নেই। এলাকাবাসী উত্তম রায়ের বক্তব্য, পাকা সেতু না থাকায় এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ঢোকে না। কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়। এখানে একটি প্রথমিক বিদ্যালয় ও একটি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। পড়ুয়া সহ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের কর্মীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। এইনিয়ে উত্তরবঙ্গ সংবাদেও একাধিকবার খবর প্রকাশিত হয়েছে। সমস্যার কথা জানেন নেতা সহ প্রশাসনের কর্তারাও। অথচ কেউ কোনও উদ্যোগ নেননি। এলাকাবাসী জয়ন্ত রায় জানান, সাঁকো থেকে পড়ে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। অথচ বিষয়টিকে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবার ভোটের আগে বিভিন্ন দলের নেতারা আসেন। প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট পেরোলেই আর মনে থাকে না।

- Advertisement -

পদমতি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মৌমিতা রায় জানান, মোশারফের ঘাটে ধরলা নদীতে পাকাসেতু এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। ওখানে পাকাসেতু হলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন। কিন্তু সেই কাজ গ্রাম পঞ্চায়েতের সাধ্যের মধ্যে নয়। তবে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে এইনিয়ে ঊর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিবম রায় বসুনিয়া জানান, সেখানে পাকাসেতু তৈরি করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। যেটা পঞ্চায়েত সমিতির ফান্ড থেকে সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি জেলা পরিষদে জানানো হয়েছে। ভোটের জন্য আপাতত উন্নয়নমূলক সমস্ত কাজ বন্ধ আছে। আশা করা হচ্ছে ভোটের পরে সেখানে কাজ হবে।