তৃণমূল-বিজেপি’র প্রতিশ্রুতিতে ভোট বয়কটের সিন্ধান্ত থেকে সরলেন স্থানীয়রা

96

হেলাপাকড়ি: তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলের নেতাদের প্রতিশ্রুতিতে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালেন স্থানীয়রা। তবে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

ময়নাগুড়ি ব্লকের মাধবডাঙ্গা-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্তবর্তী তালগুড়ি ঘাটে ধরলা নদীতে পাকা সেতু এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। নদী সংলগ্ন দুই পাড়ের বাসিন্দারা দলমত নির্বিশেষে তালগুড়ি ঘাট সেতু উন্নয়ন কমিটি গঠন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতদিন প্রতিশ্রুতি মিললেও কাজ হয়নি। তাই এবার বিধানসভা ভোট বয়কট করে আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। এইনিয়ে সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সংবাদে খবর প্রকাশিত হয়। এরপরই এলাকা পরিদর্শন করেন শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন ও বিজেপি সাংসদ ডঃ জয়ন্ত রায়। দু’জনেই পাকা সেতু করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলেরই প্রতিনিধিরা এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন। যে দলই ক্ষমতাও আসুক পাকা সেতু তাদের চাই। নাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা অপূর্ব রায় জানান, পাকা সেতু না থাকায় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বছরের অন্যসময় নিজেরাই বাঁশের সাঁকো বানিয়ে কোনওরকমে দুই পাড়ের যোগাযোগ রক্ষা করেন। কিন্তু বর্ষায় নদীতে জল বাড়লে সমস্যা হয়। তখন প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। ফলে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। বাসিন্দা দিনেশচন্দ্র রায় জানান, বামফ্রন্টের আমল থেকেই এখানে পাকা সেতুর দাবি জানানো হচ্ছে। অনেকেই এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু কেউ কোনও সুরাহা করতে পারেননি। তাই এবার ভোট বয়কট করার পরিকল্পনা ছিল। সম্প্রতি তৃণমূলের তরফে বিজয়ন্দ্র বর্মন ও বিজেপির তরফে সাংসদ জয়ন্ত রায় এসে পাকা সেতু করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই দুই দলের দিকে তাকিয়ে ভোট বয়কটের সিন্ধান্ত থেকে আপাতত সরে দাঁড়ানো হয়েছে। তবে যে দলই ক্ষতায় আসুক প্রতিশ্রুতি না রাখলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

তালগুগুড়ি ঘাট সেতু উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হরেরাম রায় জানান, এটা আজকের আন্দোলন নয়। দুই পাড়ের বাসিন্দারা কমিটি গঠন করে দীর্ঘদিন থেকেই এনিয়ে আন্দোলন করছেন। কিন্তু আজ অবধি কোনও সুফল মেলেনি। কাজেই এবার বিধানসভা ভোট বয়কটের চিন্তাভাবনা ছিল। কিন্তু ভোটের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যকর্তারা এসে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাই তাঁদের মুখ চেয়ে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে। তবে পাকা সেতু না হওয়া পর্যন্ত কমিটির আন্দোলন জারি থাকবে। ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিবম রায়বসুনিয়া জানান, তালগুড়ি ঘাটে পাকাসেতু তৈরির জন্য পঞ্চায়েত সমিতির তরফে সংশ্লিট দপ্তরে দাবি জানানো হয়েছে। সেতু তৈরির বিষয়ে আশ্বাসও মিলেছে।