বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল এলাকাবাসী

66

গাজোল: দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থা বিদ্যুতের। সমস্যা সমাধানের জন্য গাজোল বিদ্যুৎ দপ্তরে আবেদন পত্র জমা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উলটো মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে এলাকাবাসীরা। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ জামতলার কাছে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে এলাকাবাসীরা। ব্যস্ত সময়ে বিক্ষোভের জেরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় গাজোল থানার পুলিশ। এলাকাবাসীদের বুঝিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করতে সমর্থ হয় পুলিশ। তবে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন সমস্যার সমাধান না হলে আবার আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে নাজেহাল দেওতলা, করকচ প্রকৃতি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বহু গ্রাম। এলাকাবাসীদের জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র কয়েকঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। যার ফলে চরম অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় তাদের। গতকাল সারাদিন বিদ্যুৎ ছিল না। এদিন সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ দপ্তরে জানানোর পরেও সমস্যার সমাধান না হয় এদিন বাধ্য হ্যে গ্রামবাসীরা রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান মিয়াঁ, সেলিম মাসুদ জানান, আগে গাজোল ফিডার থেকে এই সমস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হত। তখন খুব ভাল পরিষেবা আমরা পেতাম। কিন্তু যেদিন থেকে গাজোল ফিডার বাদ দিয়ে দেওতলা ফিডারের সঙ্গে আমাদের যুক্ত করা হয়েছে সেদিন থেকেই চলছে চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

- Advertisement -

বর্তমানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ রোজা পালন করছেন। রাতের অন্ধকার থাকতেই তাদের রান্নার কাজ সেরে ফেলতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার জন্য চরম অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। পাম্প চালাতে না পারার জন্য পাওয়া যাচ্ছে না খাওয়ার জল। মোবাইল চার্জ করা যাচ্ছে না। যার ফলে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না। গত সাতদিন ধরে অবস্থা চরম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মাহিনুর রহমান জানান, এবছর মাধ্যমিক দেবে সে। স্কুল বন্ধ, তাই অনলাইনেই চলছে পড়াশোনা। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার জন্য পড়াশোনায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে। মোবাইল চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল চার্জ করতে গেলে যেতে হচ্ছে অন্য জায়গায়। যার ফলে সমস্যা বাড়ছে। তাই সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার মত অনেক ছাত্রও এদিন প্রতিবাদে সামিল হয়েছে।

এবিষয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে দপ্তরের তরফে জানানো হয়, কারিগরি কিছু সমস্যার জন্য ওই ফিডারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। গতকাল ব্রেকডাউনের জেরে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার। এলাকার সমস্যা নিয়ে গ্রামবাসীরা একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেটি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য আমরা দপ্তরের তরফে সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছি।