পাকা রাস্তার দাবিতে ভোট বয়কটের ডাক স্থানীয়দের

65

রাজগঞ্জ: কোনও রাজনৈতিক দলের নেতাদের আর প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করতে রাজি নন। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে নেতারা প্রতিশ্রুতি দিলেও কাঁচা রাস্তা পাকা হয়নি। তাই এবার পাকা রাস্তার দাবিতে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন রাজগঞ্জের সন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম বালাবাড়ির বাসিন্দারা। শনিবার বাসিন্দারা একজোট হয়ে ভোট বয়কটের পোস্টার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা জানান, শাসক ও বিরোধী দলের স্থানীয় নেতারা ভোটের পরে রাস্তা পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাসিন্দারা ভোট বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড়। এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস।

রাজগঞ্জের সন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের লালস্কুল বালাবাড়ি থেকে পশ্চিম বালাবাড়ি প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। ওই রাস্তায় রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এছাড়া প্রায় ৭টি গ্রামের মানুষকে যাবতীয় কাজে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তাটি পাকা করার দাবিতে অনেকদিন থেকে আবেদন করছেন স্থানীয়রা। এই নিয়ে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয়রা জটিয়াকালী–গাডরা পাকা রাস্তা অবরোধ করেছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে রাস্তাটি পাকা করার জন্য টেন্ডার পাশ হয়। পাশাপাশি শিলান্যাসও করা হয়। তারপরও রাস্তাটি কেন পাকা হয়নি? প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিম বালাবাড়ি সহ ওই রাস্তায় চলাচলকারী অন্যান্য গ্রামের বাসিন্দারা।

- Advertisement -

মতিয়ার রহমান, আলিমা খাতুন প্রমুখ বাসিন্দা জানান, বেহাল রাস্তার জন্য প্রায় চল্লিশ বছর থেকে তাঁরা যাতায়াতের সমস্যায় ভুগছেন। বামফ্রন্টের সময় থেকে রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। নেতারা অনেকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কাজ হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে পাকা রাস্তা করার জন্য টেন্ডার হয়েছে বলে শুনছেন। তারপরও কেন পাকা করা হল না? তাই ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। রকিনা খাতুন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তাঁরা স্থায়ী নাগরিক। প্রতিবার ভোট দেন। তাহলে সরকার তাঁদের দাবি কেন মানছে না? নেতাদের অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। তাই নতুন করে আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চান না। রাস্তা পাকা না করা হলে কোনও দলকেই ভোট দেবেন না বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য সৌকত আলি জানান, বাসিন্দাদের দাবিতে যুক্তি আছে। বিষয়টি তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। ৬ মাস আগে দুটি কালভার্ট সহ রাস্তাটি পাকা করার জন্য টেন্ডার হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়। তারপরও কেন কাজ হয়নি তা বোঝা যাচ্ছে না। এলাকার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রৌশন হাবিব জানান, বামফ্রন্ট ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও ওই রাস্তা নিয়ে ভাবেনি। তিনি ভোটের জেতার পর রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। টেন্ডারও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ব্লক প্রশাসন কেন ওয়ার্ক অর্ডার দিচ্ছেনা তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন। ভোটের পরে অবশ্যই কাজ হবে। তবে বিরোধীদের উস্কানিতে স্থানীয়রা ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যাতে ভোট বয়কট না করা হয় সেই বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।