নার্সিংহোমে ঠাঁই নেই স্থানীয়দের, অগ্রাধিকার বিহারের সংক্রামিতদের

125
প্রতীকী ছবি

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : আক্ষরিক অর্থেই ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই অবস্থা। শিলিগুড়ি শহরের সিংহভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে বর্তমানে বিহারের করোনা সংক্রামিতদের ভিড়। ফলে শহর বা শহরতলি এমনকি উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জায়গা থেকে আসা সংক্রামিতদের জায়গা হচ্ছে না। অভিযোগ, বিহারের সংক্রামিতদের শিলিগুড়িতে এনে চিকিৎসার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট চলছে। এজন্য অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের মাধ্যমে একটি দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সে দেখেও প্রশাসন নীরব বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলগুলির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক অবশ্য বলছেন, আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ না এলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, শিলিগুড়ি শহরে কমবেশি ৩০টি বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে করোনার চিকিৎসা করা হচ্ছিল। তবে আয়ের রাস্তা খুঁজে পেয়ে ইদানীং ছোট নার্সিংহোমগুলি সাধারণ রোগী ভর্তি বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট জায়গার একটু দূরে বেড পেতে পর্দা দিয়ে জায়গাটিকে আলাদা করে সেই জায়গাটিকে আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসাবে তৈরি করেছে। তারপর এই ওয়ার্ডে করোনা সংক্রামিত বা করোনার উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের ভর্তি করে চিকিৎসা চালাচ্ছে। মাটিগাড়া, মেডিকেল মোড়, শিবমন্দির এলাকার কিছু নার্সিংহোমে প্রথম অবস্থায় ভেন্টিলেটর, মনিটর, পর্যাপ্ত অক্সিজেন কিছুই থাকছে না। বাজার থেকে ছোট অক্সিজেন সিলিন্ডার ভাড়া করেও বেশ কিছু নার্সিংহোম রোগী ভর্তি নিচ্ছে। এই নার্সিংহোমগুলির সঙ্গে কোনও অভিজ্ঞ চিকিৎসকও যুক্ত নেই। শহরের বেশ কিছু চিকিৎসককে অন কল ডেকে এই নার্সিংহোমগুলি রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে। শিলিগুড়ি শহর ও শহরতলির যে নার্সিংহোমগুলিতে করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসা চলছে সেখানকার আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলিতে বিহারের ঠাকুরগঞ্জ, কিশনগঞ্জ, কাটিহার, পূর্ণিয়া, আরারিয়ার রোগীরাই বেশি রয়েছেন।

- Advertisement -

কী কারণে এই বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতে বিহারের রোগীদের গুরুত্ব বেশি? সূত্রের খবর, করোনা সংক্রামিত বা করোনার উপসর্গযুক্ত রোগীর চিকিৎসায় ন্যূনতম আড়াই-তিন লক্ষ টাকার বিল হয়। এই টাকার ৭০-৭৫ শতাংশই লাভ। শিলিগুড়ি বা উত্তরবঙ্গের অন্য কোনও জেলার রোগী হলে এভাবে বিল করতে সমস্যা হয়। বিলের পরিমাণ কমাতে নেতা-মন্ত্রীদের ফোন নার্সিংহোমগুলির বিড়ম্বনা বাড়ায়। পাশাপাশি, কোনও সমস্যা হলে রোগীর আত্মীয়দের গণ্ডগোল তো আছেই।  কিন্তু ভিনরাজ্যের রোগী এলে নার্সিংহোমগুলির কোনও সমস্যা হয় না। শিলিগুড়ি লাগোয়া বিহারে বর্তমানে করোনার বেশ দাপট। তবে সেখানে চিকিৎসার তেমন পরিকাঠামো নেই। তাই বিহারের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংক্রামিতরা শিলিগুড়িতে এসে চিকিৎসা করাচ্ছেন। বলা ভালো, বিহারের সংক্রামিতদের এখানে নিয়ে আসা হচ্ছে। বিহারের বিভিন্ন অ্যাম্বুল্যান্স চালকের সঙ্গে এই নার্সিংহোমগুলির যোগাযোগ রয়েছে। এভাবেই গজিয়ে ওঠা দালালচক্রের মাধ্যমে বিহার থেকে সংক্রামিতদের এখানে এসে ভর্তি করে লক্ষ লক্ষ টাকার বিল করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি বা উত্তরবঙ্গের অন্য জেলার মানুষ শিলিগুড়িতে চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না। এই সংক্রামিতদের কারও ভেন্টিলেশন, কারও বা অক্সিজেন প্রয়োজন। কিন্তু কোনওটাই সেভাবে মিলছে না। ফলে সংক্রামিতদের অনেকেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন। সবকিছু জানা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল চুপ করে রয়েছে বলে অভিযোগ। সমস্যা মেটাতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে।