চার মহিলা ছাগল চোরকে গণধোলাই স্থানীয়দের

1217

আসানসোল: ছাগল চুরি করতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়লেন ঝাড়খণ্ডের চার মহিলা। ধৃতদের গণধোলাইও দেওয়া হয়। পরে তাদের পুলিশ কোনমতে উদ্ধার করে মারমুখী বাসিন্দাদের হাত থেকে। বৃহস্পতিবার সকালে আসানসোলের কুলটি থানার নিয়ামতপুর চিত্তরঞ্জন রোডের ডেডি গ্রামের ঘটনা।

জানা গিয়েছে, ৪ মহিলা ঝাড়খণ্ডের জামতাড়ার বাসিন্দা। সাইবার অপরাধে দেশজুড়ে জামতাড়ার নাম রয়েছে। তা পুলিশের খাতায় “জামতাড়া গ্যাং” নামে পরিচিত। এতদিন সেখানকার পুরুষদের নাম সাইবার অপরাধী হিসাবে শোনা গেলও এই প্রথম সেখানকার মহিলাদের গ্যাংয়ের হদিস মিলল বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া কুলটি থানা এলাকায়।

- Advertisement -

ছাগল চোরের গ্যাং ধরা পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা মহিলাদের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে তাদের উপরে। গণধোলাই দেওয়া শুরু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় কুলটি থানার নিয়ামতপুরের ডেডি গ্রামে। এই এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বাড়ির ছাগল মাঠে চরতে গিয়ে ফিরে আসছিল না। বলতে গেলে প্রতিদিনই প্রায়ই কারো না কারোর ছাগল উধাও হয়ে যাচ্ছিল। খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন, নিয়ামতপুর চিত্তরঞ্জন রোডের ফাঁকা জায়গায় একটা অটো এসে দাঁড়ায়। চারজন মহিলা সেই অটো থেকে নেমে চরতে থাকা ছাগলগুলিকে কোলে তুলে ওড়না ঢাকা দিয়ে অটোর দিকে যাচ্ছে। তারা দৌড়ে গিয়ে অটো সহ ওই চার মহিলাকে ধরে ফেলেন। চুরি করে নেওয়া ছাগলগুলিও উদ্ধার হয় সেই অটো থেকে। সেই ঘটনা জানজানি হতেই গ্রামের মহিলারা তাদের গণধোলাই দিতে শুরু করেন। চুলের মুঠি ধরে জুতো পেটা করা শুরু হয়। খবর পেয়ে এলাকায় নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ। গণধোলাইয়ের হাত থেকে ৪ মহিলাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয় পুলিশকে। উত্তেজিত জনতার সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায় পুলিশের। গণধোলাইয়ের শিকার ৪ জনকে কোনওক্রমে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করা হলে গ্রেপ্তার করা হবে।