পরিকল্পিতভাবে লুঠপাট চালাতেই তৃণমূলের নেতৃত্বে গজলডোবায় হামলা: অভিযোগ

282

রাজগঞ্জ: পরিকল্পিতভাবে লুঠপাট চালাতেই তৃণমূলের নেতৃত্বে গজলডোবায় হামলা চালানো হয়। তির-ধনুক ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি গুলিও চালানো হয়। তিরের আঘাতে একজন আহত হয়েছেন। এই অভিযোগ তুলে ফের পথে নামলেন ব্যবসায়ীরা। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সোমবারের পর মঙ্গলবারও আমবাড়ি-গজলডোবা রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গজলডোবায়।

পর্যটকরা ভোরের আলোতে আসবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এদিন পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যান জলপাইগুড়ির বিজেপির সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায়। এছাড়াও ছিলেন বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি দীপেন প্রামাণিক ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বরা। তবে রাজগঞ্জের তৃণমূলের বিধায়ক খগেশ্বর রায় বা তৃণমূল নেতৃত্বকে দেখা যায়নি সেখানে।

- Advertisement -

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চার গাড়ি লোক এসে তির-ধনুক ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে লুঠপাট চালিয়ে দোকানপাট ব্যাপকভাবে ভাঙচুর ও ব্যবসায়ীদের মারধর করে। কয়েক লক্ষ টাকা লুঠ করে নিয়ে যায়। হামলা চালানোর সময় তাঁরা তৃণমূলের এসসি, এসটি, ওবিসি সেলের জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি কৃষ্ণ দাসের অনুগামী বলেও হুমকি দিচ্ছিল। হামলাকারীরা দুই রাউন্ড গুলি চালায় বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। তিরের আঘাতে নিরঞ্জন সন্ন্যাসী নামে এক ব্যবসায়ী জখম হন। নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা।

সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায় বলেন, ‘কয়েক গাড়ি লোক এসে তাণ্ডব চালিয়ে গেল। তাই প্রশাসন ও পুলিশ বলে কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না। স্থানীয়রা আমাকে জানিয়েছেন যে তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের অনুগামীরা ওই তাণ্ডব চালিয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনও পর্যন্ত ওই গাড়িগুলি বাজেয়াপ্ত করেনি এবং অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার করেনি। আমি পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই গাড়ি সহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করলে দলীয়ভাবে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।’ প্রায় দু’ঘণ্টা পর পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

তৃণমূলের এসসি, এসটি, ওবিসি সেলের জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি কৃষ্ণ দাস বলেন, ‘ওই ঘটনায় আমার সংগঠনের কেউ জড়িত নেই।’ তবে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলার চেয়ারম্যান তথা রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, ‘আমি বাইরে আছি। সেখানে কারা হামলা চালিয়েছে তা জানি না। যেহেতু পুলিশ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে তাই আইন আইনের মতো চলবে।’