পাকা সেতুর দাবিতে বাঁশের সাঁকো পুড়িয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদ

364

জাকির হোসেন, ফেশ্যাবাড়ি: কোচবিহার-১ ব্লকের মোয়ামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় আঠারোকোটা গ্রামের গাড্ডারপাড়ে পাকা সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। বহু বছর ধরে নেতা, জনপ্রতিনিধিতো বটেই রাজ্যের মন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া আশ্বাসেও কাজ হয়নি। ফলে সমস্যায় রয়েছেন বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। এরই প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার মরাতোর্ষা নদীর জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোতে আগুন লাগিয়ে দিলেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মরাতোর্ষা নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোই নির্ভরশীল। বর্তমানে সেটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যার জেরে প্রায়শই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা মুকুন্দ বিশ্বাস জানান, বাঁশের সাঁকোর অবস্থা এতটাই বেহাল যে সাইকেল নিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ। কোনও মুমূর্ষ রোগী অথবা গর্ভবতী মহিলাদের নিয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কোলে করে সাঁকো পেরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেকটাই সময় নষ্ট হয়। স্কুল পড়ুয়াদের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে পাকা সেতুর দাবি জানিয়েও তা পূরণ না হওয়ায় এদিন প্রতিবাদে শামিল হন স্থানীয়রা।

- Advertisement -

এলাকার অপর বাসিন্দা বাবলু হোসেন, আবুল হোসেন, সাহাজান আলি জানিয়েছেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এখানে এসে পাকা রাস্তা ও পাকা সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আবদুল জলিল আহমেদও সেতুর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। তারপর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও সেতু নির্মাণের বিষয়ে সদর্থক ভূমিকা পালন করা হয়নি। যার জেরে নদী তীরবর্তী কোচবিহার-১ ব্লকের মোয়ামারি, বড় আঠারোকোটা, ছোট আঠারোকোটা, গাড্ডারপাড় তো বটেই পার্শ্ববর্তী কোচবিহার-২ ব্লকের কালপানি, মালতিগুড়ি চর, দামোদরপুর, যাত্রাপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে বাঁশের সাঁকো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়রা তাতে বাধা দেন। তাঁদের দাবি, আর কোনও প্রতিশ্রুতি নয়, যতদিন না পাকা সেতু হচ্ছে, ততদিন এলাকাবাসী জল ভেঙে পারাপার করবেন।

মোয়ামারি গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে খবর, সম্প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে বাঁশের সাঁকো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এলাকাবাসীর বাধায় তা সম্ভব হয়নি। সেতুর বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ফের জানানো হবে। এই প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সরোবিন্দু রায় জানান, সম্প্রতি ওই জায়গায় দপ্তরের আধিকারিকরা মাপজোক করে এসেছেন। শীঘ্রই টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।