খুলনাই নদীর লক গেট অকেজো

কৌশিক দাস, ক্রান্তি : লক গেট তৈরির মাধ্যমে নদীর জল আটকে সেচের কাজে ব্যবহার করে কৃষকদের সাহায্য করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, লক গেটের ওপর দিয়ে নদী পারাপারও যাতে করা যায় সেদিকটাও নজরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে দুটোর কোনওটাই কাজে আসছে না বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। একদিকে যেমন কৃষকরা জলও পাচ্ছেন না, তেমনি অপরদিকে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ফলে সরকারি অর্থের অপচয় করে লক গেট তৈরি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এলাকায়।

ঘটনাটি মাল ব্লকের ক্রান্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের চৌরঙ্গির দক্ষিণ খালপাড়ার। লক গেটটির পুনর্নির্মাণ অথবা সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। ১২ বছর আগে ২০ লক্ষ টাকারও বেশি ব্যয়ে খুলনাই নদীর ওপর এই লক গেটটি তৈরি করা হয়েছিল। নদীর জল ধরে রেখে শুখা মরশুমে সেচের কাজে সেই জল ব্যবহার করাই উদ্দেশ্য ছিল। মাল ব্লকের চৌরঙ্গি কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। শ্যালো দিয়ে জমিতে জলসেচের জন্য কৃষকদের মোটা টাকা খরচ করতে হয়। উত্তর ও দক্ষিণ খালপাড়ার প্রায় চার হাজার গ্রামবাসী সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হন। পরিকল্পনার সঙ্গে লক গেটটি তৈরি করা হলে সাধারণ গ্রামবাসীরা উপকৃত হতেন বলেই তাঁদের দাবি। স্থানীয় বাসিন্দা রাতুল রায় বলেন, লক গেটটি আমাদের কোনও কাজেই আসছে না। নদী থেকে অনেকটা দূরে লক গেটটি থাকায় নদীর জল আটকানো সম্ভব হচ্ছে না। গ্রামবাসীরাও নদী পারাপার করতে পারছেন না। বাঁশের সাঁকোও নদীর স্রোতে ভেসে গিয়েছে। কৃষক প্রদীপ রায়, সুভাষ রায় বলেন, কী উদ্দ্যেশ্যে লক গেটটি বানানো হয়েছিল তা আমরা বুঝতে পারছি না। সাধারণ মানুষের করের টাকা অপচয় হল।

- Advertisement -

মাল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পঞ্চানন রায় বলেন, অপরিকল্পিতভাবে লক গেটটি বানানো হয়েছে। সাধারণ গ্রামবাসী থেকে শুরু করে কৃষক, কারও কোনও কাজেই লাগছে না। এভাবে সরকারি অর্থ অপচয়ে কোনও মানেই হয় না। লক গেটটি ঠিকঠাকভাবে তৈরি হলে গ্রামবাসীদেরও ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হত না। এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য থাকাকালীন সময়ে লিখিত আকারে আমি নিজে বিষয়টি সেচ দপ্তরকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। মৌখিকভাবেও বেশ কয়েকবার জানিয়েছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাল সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।