ঘোষণার পরেও গ্রিন জোনে গ্যারেজেই বাস

প্রতীকী ছবি।

কলকাতা: লকডাউন শুরুর প্রায় দেড় মাস বাদে আজ, সোমবার থেকে রাজ্যের গ্রিন জোনে বাস চালানোর অনুমতি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই অনুমতি কাগজে কলমেই রয়ে গেল। রাজ্যের গ্রিন জোন বলে চিহ্নিত কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম জেলায় বাস নামাচ্ছে না বাস মালিক সংগঠনগুলি। ফলে রাজ্যের যে সমস্ত জেলায় বাস চলাচলের কথা ছিল আপাতত তা হচ্ছে না।

এমনকী, সরকারি বাস চলার ব্যাপারেও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে সমর্থ হল না রাজ্য পরিবহণ সংস্থাগুলি। ফলে রাজ্য সরকারের ঘোষণা সত্ত্বেও এদিন রাজ্য রইল পরিবহন শূন্য অবস্থাতেই। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল, বাসে মাত্র ২০ জন যাত্রী উঠতে পারবেন। বাস সংগঠনগুলির দাবি ছিল, মাত্র ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস চালানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। একটি বাস চালাতে যে টাকা খরচ পড়ে তাতে ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে গেলে ক্ষতির বহর বেড়ে যাবে।

- Advertisement -

দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকেই ক্রমশ কমছিল গণ পরিবহণের সংখ্যা। রাস্তায় যাত্রী অমিল থাকায় ধীরে ধীরে বাস চলাচলের সংখ্যা কমেছে। জনতা কার্ফিউ দিন থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়। লকডাউন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরে রাস্তায় আর বাস নামেনি। দীর্ঘদিন ধরে বাস চলাচল না করায় ক্ষতি হয়েছে ব্যবসার। এই অবস্থায় ফাঁকা বাস চালানো ব্যবসার পক্ষে লাভজনক নয় বলে মত প্রকাশ করেন বাস চালকদের সংগঠন।

রাজ্যের যে সমস্ত জেলাকে গ্রিন জোন বলে ঘোষণা হয়েছে সেখানে বড়ো সংখ্যক বাস চলাচল করে। মিনি বা মিডি বাস চলাচল করে না। যে বাস চলাচল করে তাতে নুন্যতম আসন সংখ্যা ৫০-র কাছাকাছি। সেখানে মাত্র ২০ আসনে যাত্রী মানে ফাঁকা পড়ে থাকবে ৩০ আসন। এছাড়া ৫০ আসনের বাসে যাত্রী হয় কমপক্ষে ৭০ এর কাছাকাছি। ফলে যে ভাড়ায় বাস চালানো হয় তাতে বাস চালানো মুশকিল হয় না বলে মত সংগঠনের। এখন বাসের নূন্যতম ভাড়া ৭ টাকা। প্রথম ৪ কিলোমিটার এই ভাড়ায় যাওয়া যায়। তার পরে স্টেজ পিছু ভাড়া বাড়তে থাকে। এই অবস্থায় বাস চালানো নিয়ে ফাঁপড়ে বাস মালিকরা।

বাস-মিনিবাস সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই ভাড়ায় ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস চালানো মুশকিল। আমরা আগেই তা সরকারকে জানিয়েছি। কোনও আয় তো হবেই না। উল্টে ক্ষতি হবে বাস মালিকদের। এই টাকায় পরিষেবা দেওয়া খুবই মুশকিল।” একই সুর জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, “বাস মালিকদের গৌরি সেন নেই। এইভাবে বাস চালানো আমাদের পক্ষে অবাস্তব। সরকার অন্যরকম ভাবনা চিন্তা করুক। আমাদের সঙ্গে পরিবহণ দফতরের আলোচনা হয়েছিল। আমরা আমাদের দাবির কথা জানিয়েছি। কিন্তু কোনও সুরাহা এখনও মেলেনি।”

বাস মালিকদের এখনও পর্যন্ত দাবি, ভোটের সময় সরকার যেভাবে রিকুইজিশন দিয়ে বাস নেয়, তেমনভাবে রিকুইজিশন দিয়ে বাস নিক মালিকদের থেকে। তাহলে অন্তত বাস চালিয়ে নিশ্চিত করা যাবে কর্মীদের মাইনে। লকডাউনের জেরে তাদের আয় এখন কিছুই নেই। অন্যদিকে এই সব গ্রিন জেলায় বাস নামানো যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছে সরকারি পরিবহণ সংগঠনগুলির। প্রয়োজন হলে সরকারি পরিবহণ নিগম বাস চালাতে পারে। তবে এদিন সরকারি বাস ডিপোগুলি থেকেও একটিও বাস রাস্তায় বেরোইনি। এ ব্যাপারে সরকারি বাস গুমটির ইনচার্জরা জানিয়েছেন যে, বাস চালানোর ব্যাপারে সরকারি কোনো লিখিত নির্দেশনামা তাঁরা পাননি। তাই তাঁরা রাস্তায় বাস নামাননি।