লকডাউনের জেরে দূষণ কম, স্বমহিমায় ফিরছে আত্রেয়ী

সুজয় সরকার, বালুরঘাট: আমাদের সভ্যতা নদীমাতৃক। নদীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত এই বিশ্বের জীবচক্র। কিন্তু অপরিমিত দূষণে নদীর ভবিষ্যত কী, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর ভবিষ্যত নিয়ে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধে। কিন্তু সব জল্পনা উড়িযে আত্রেয়ী নদী ধীরে ধীরে স্বমহিমায় ফিরছে। দেশজুড়ে লকডাউনের ফলেই যে এই ঘটনা ঘটছে, তা স্বীকার করেছেন পরিবেশপ্রেমীরা।

উল্লেখ্য, আত্রেয়ী বাঁচাতে বিভিন্ন সময় জেলাবাসী সরব হয়েছেন। নানা সময় নদীর দূষণ কমানোর দাবি তুলেছেন পরিবেশপ্রেমীরা। বিশেষজ্ঞরা মানছেন, এতদিন পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন করে যা সম্ভব হয়নি, লকডাউনে দ্রুত সেই ফল মিলেছে। তাঁরা বলছেন, লকডাউনের ফলে আত্রেয়ীর জলে দূষণ অনেক কমেছে। জল অনেক স্বচ্ছ হয়েছে। পরিচিত দেশীয় মাছের দেখা মিলছে। মাছের টানে আসছে নানা পাখি।

- Advertisement -

আত্রেয়ী দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রধান নদী। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই নদী নানা সমস্যায় জর্জরিত। নদী দূষণ রোধে সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া সহ একাধিক দাবিতে পরিবেশকর্মীরা বিভিন্ন সময় সরব হয়েছেন। আত্রেয়ী বাঁচাতে আন্দোলনও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে লকডাউনের মধ্যে আত্রেয়ীকে ক্রমশ স্বমহিমায় ফিরতে দেখে  মৎস্যজীবী ও পরিবেশপ্রেমী থেকে শুরু করে আত্রেয়ী পাড়ের বাসিন্দারা খুশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউনে মানুষ গৃহবন্দি। রাস্তাঘাটে যানবাহনের দূষণ নেই। বন্ধ হয়েছে কলকারখানা। পূজার্চনা বন্ধ থাকায় নদীর জলে প্রতিমা বিসর্জন হচ্ছে না। ফলে নদীকেন্দ্রিক উপাচার বন্ধ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে নদীতে দূষণের মাত্রা কমেছে।

বালুরঘাটের পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ বসাক বলেন, লকডাউনের ফলে আত্রেয়ীতে অনেক তফাৎ লক্ষ করছি। নদীতে কারণে অকারণে মানুষের আনাগোনা বন্ধ। ফলে জীববৈচিত্র রক্ষা পাচ্ছে। নদীর জল আগের তুলনায় অনেক স্বচ্ছ। নদীর বুকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আসছে। অসময়ে নদীতে লেসার হুইসিল ডাক দেখতে পাচ্ছি। তাছাড়া জলপিপি, ডাহুকের মতো পরিচিত পাখি দেখা যাচ্ছে। জল স্বচ্ছ হওয়ায় মাছ অনেক বেশি স্বচ্ছ হয়েছে। মাছের রং সুন্দর হয়েছে। পাশাপাশি নদীর পাড়ে নানা ধরনের ওষধি গাছ বেড়ে উঠেছে।

আত্রেয়ীর স্বচ্ছতা যে আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, তা স্বীকার করেছেন নদীর পাড়ের বাসিন্দারা। খিদিরপুর অঞ্চলের নদীর পাড়ের বাসিন্দা ঝন্টু হালদার বলেন, নদীর জল আগের তুলনায় অনেক স্বচ্ছ। এপ্রসঙ্গে ভূগোলের অধ্যাপক শৈবালকান্তি পয়রা বলেন, সাধারণভাবে কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত সার, কীটনাশক, গৃহস্থালি আবর্জনা, থার্মোকল, প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের কারণে নদীর জল দূষিত হয়। লকডাউনে এই ধরনের সমস্যা বন্ধ হয়েছে। ফলে জলের স্বচ্ছতা ফিরেছে।

চারিদিকের করোনা আতঙ্কের মাঝে নদীর জলের স্বচ্ছতা ফেরার বিষয়টি অত্যন্ত ভালো লক্ষণ বলে উল্লেখ করছেন পরিবেশকর্মী তুহিনশুভ্র মণ্ডল। তিনি বলেন, প্রতিমা বিসর্জন সহ নানা কারণে নদীর জল দূষিত হত। লকডাউনের কারণে নদী দূষণের মাত্রা অনেকটাই কমেছে। ফলে নদীর জল অনেক স্বচ্ছ হয়েছে। আমাদের এই নদীর বিশেষ পরিচিত মাছ রাইখোর নদী দূষণের ফলে কমে যাচ্ছিল। এখন নদীতে বড় আকারের রাইখোরও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি আগামীতে এই নদীর পরিচিত পিয়ালী সহ ট্যাংরা, আড়, বোয়াল, রিঠার মতো বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ আরও অনেক বেশি পরিমাণে দেখতে পাব।