লকডাউনে শান্তির সুন্দরবন, রোজ মিলছে বাঘের দেখা

303

গোসাবা : করোনা সংক্রমণের জেরে লকডাউন মেনে যতই মানুষ নিজেকে ঘরবন্দি করছে, ততই সুন্দরবনের জঙ্গলে দক্ষিণরায়দের দাপট বাড়ছে। সুন্দরবনের মানুষ বাঘ বা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে স্থানীয়ভাবে দেবতা মানে, ডাকে দক্ষিণরায় বলে। সাধারণভাবে গহিন অরণ্য ও নদী, খাল-বিল ঘেরা এলাকায় বাঘ দেখতে পাওয়া পর্যটকদের কাছে খুবই দুর্লভ ব্যাপার। কখনও সখনও কপাল ভালো থাকলে সাঁতরে নদী বা খাল পেরোনোর সময় অথবা তৃষ্ণার্ত বাঘ জল খেতে এলে তার দেখা মেলে। আর সেই রোমাঞ্চের লোভেই পর্যটকরা সুন্দরবনে যান।

সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের ডিরেক্টর সুধীর দাস বললেন, সাধারণত সপ্তাহে দিনদুয়েকের বেশি বাঘ দেখার অভিজ্ঞতা বনরক্ষীদের কপালেও জোটে না। কিন্তু লকডাউনে পর্যটকদের আনাগোনা নেই। নেই মধু সংগ্রহে যাওয়া লোকেদের ভিড়ও। এই নিঝুম জনমানবহীন জঙ্গলে শান্তির পরিবেশে এখন সপ্তাহের অধিকাংশ দিনেই বাঘের দেখা মিলছে। বনরক্ষীরা বলছেন, কখনও-সখনও দিনে একাধিকবারও বাঘ দেখতে পাচ্ছেন তাঁরা।

- Advertisement -

বাংলাদেশ ও ভারতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সুন্দরবন এলাকার ভারতীয় অংশে একটি ন্যাশনাল পার্ক ও পাঁচটি অভয়ারণ্য রয়েছে। এপারের সুন্দরবনের অংশ রয়েছে ৪২০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে। বাঘশুমারি অনুযায়ী, এখানে ৯০টি বাঘের বাস। কিন্তু তাদের দেখা পাওয়া সহজ কর্ম নয। রাজ্যের মুখ্য ওযাইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন রবিকান্ত সিনহা বলেন, এখন এই বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে পর্যটকদের আনাগোনা নেই, কোনও বিরক্তিকর আওয়াজও নেই। আর সেইজন্য জঙ্গল থেকে আরও বেশি করে বাঘেরা বেরিয়ে আসছে। নদী ও খাল-বিল সাঁতরে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাচ্ছে। বিশেষ করে লকডাউন শুরু হওয়ার পরে গত কয়েকদিনে বাঘের দেখা আরও বেশি পরিমাণে মিলছে।

বছরে সুন্দরবনে ঢোকেন ২ লক্ষ পর্যটক। কয়েকশো মধু সংগ্রহকারী ও মাছশিকারি মানুষ অনুমতি নিয়ে জঙ্গলে ঢোকায় সেখানকার শান্তি বিঘ্নিত হয়। কিন্তু যেই করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মানুষ গৃহবন্দি হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে অভয়ারণ্য ও ন্যাশনাল পার্কগুলিতে বাঘেদের অবাধ বিচরণ বেড়েছে। এই রাজ্যে অভয়ারণ্য ও ন্যাশনাল পার্কগুলিতে ১৭ মার্চ থেকেই সবার প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওযা হয়েছে। ভারত জুড়ে লকডাউন শুরু হয় অবশ্য ২৫ মার্চ।

পর্যটকরা না ঢুকলেও বনরক্ষীদের দল টহল জারি রেখেছে। এই এলাকায় পাহারাদারিতে একমাত্র নৌকাই ভরসা। এখন বনরক্ষীদের পাশাপাশি বিএসএফ ও পুলিশও পাহারাদারি চালাচ্ছে জঙ্গলে। নিউইয়র্কের চিড়িয়াখানায় একটি বাঘের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবরের পর থেকে জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ এনটিসিএ নির্দেশ দিয়েছে, বাঘেদের মধ্যে করোনার উপসর্গ লক্ষ করা যাচ্ছে কিনা, সে দিকে নজর রাখতে। বাঘেদের মধ্যে শুকনো কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গেই তা ওই সংস্থাকে জানাতে হবে। আর সেই জন্যই সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন রবিকান্ত সিনহা।