লকডাউনে সংকটে কালিয়াগঞ্জের টেরাকোটা শিল্প

251

দীপঙ্কর মিত্র, কালিয়াগঞ্জ: করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে এনেছে ছন্দপতন। কাজ হারিয়ে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

শিল্প ও কলকারখায় এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বাদ যায়নি উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের কুনোরে অবস্থিত টেরাকোটা শিল্প। এখানকার টেরাকোটা শিল্পীদের শিল্পকর্ম বিশ্ববিখ্যাত। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখানকার শিল্পকর্ম ছড়িয়ে রয়েছে। কিন্ত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রতিরোধে লকডাউনের প্রভাব পড়েছে এই শিল্পে। টেরাকোটা সামগ্রীর চাহিদা না থাকায় এখন কাজকর্ম বন্ধের মুখে। ফলে জীবন ও জীবিকা নিয়ে সংকটে পড়েছেন এখানকার প্রায় ৫০জন শিল্পী। এখন তাঁরা সরকারি সাহায্যের আসায় দিন গুণছেন।

- Advertisement -

শিল্পীদের দাবি, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি সাহায্য। তা না হলে বিশ্ববিখ্যাত এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা দুষ্কর হয়ে দাঁড়াবে।

আরও পড়ুন: ছুটির দিনেও স্বেচ্ছায় কাজ করলেন চা শ্রমিকেরা

এই শিল্পের জন্মকাল থেকে যুক্ত কেশব রায় ও আশিষ রায়। তাঁদের শিল্পকীর্তির অবদান অনস্বীকার্য। শিল্পী কেশব রায় জানান, লকডাউনের ফলে তাঁদের তৈরি শিল্পসামগ্রী বাইরে যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আনুমানিক ৪০থেকে ৫০জন শিল্পী কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে রয়েছেন।

লকডাউনে সংকটে কালিয়াগঞ্জের টেরাকোটা শিল্প| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

তিনি আরও জানান, তাঁদের তৈরি ফুলদানি, কফি কাপ, প্রভৃতি সামগ্রী শিলিগুড়ি, কলকাতা ছাড়াও আমেরিকা, জাপান, লন্ডনে যায়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা হলদিয়া, মেদিনীপুর, বর্ধমান, কলকাতা, শিলিগুড়িতে রাজ্য সরকার আয়োজিত হস্তশিল্প মেলায় শিল্পসামগ্রী নিয়ে তাঁরা অংশগ্রহণ করে।

বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্ডার পাওয়ার পর সামগ্রী তৈরি করলেও সেগুলি কারখানাতেই পড়ে রয়েছে। যানবাহন বন্ধ থাকার জন্য কিছুই পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এরফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্ষতির সন্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানান কেশব বাবু।

এই বিষয়ে অন্য আরও এক প্রবীণ শিল্পী আশিষ রায় জানান, গত দশ বছর ধরে তিনি মূলত মহিলাদের টেরাকোটার গয়না তৈরি করে আসছেন। স্ত্রী ও সন্তানেরা এই কাজে তাঁকে সাহায্য করেন। তার তৈরি গয়না হায়দরাবাদ, মুম্বই, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাটে যায়। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুবাইতেও তাঁর হাতে তৈরি জিনিস রপ্তানি করছেন। বর্তমানে লকডাউনের ফলে সবকাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে ফলে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে তাদের এই শিল্প।

আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ সাহায্য নাগরাকাটার বিধায়কের

শিল্পীরা জানান, দেশের স্বার্থে আমাদের লকডাউন মেনে চলতেই হবে। কারণ লকডাউন ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। তবে এই শিল্পকে বাঁচাতে আগামীতে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

এই বিষয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা শিল্প অধিকর্তা সুনীল সরকার বলেন, ‘সরকার শিল্পীদের কথা নিশ্চয় ভাববে। শুধুমাত্র বড় শিল্পে নয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পেও এর প্রভাব পড়েছে। আমরা শিল্প ও শিল্পীদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’