পুরোনো পেশা ছেড়ে শ্রমিকের কাজ খুঁজছেন চিন্ময়রা

242

শমিদীপ দত্ত, সেবক: সকাল হতেই বেজে উঠত সেবকেশ্বরী মন্দিরের ঘণ্টা। পাহাড়, তিস্তার সৌন্দর্যের মাঝেই মন্দিরের সামনে হাজির হতেন দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। পুজোর সামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন অমল রায় সহ অনেকেই। পুজো দিয়ে মন্দির থেকে নামার পর খাবারের স্বাদ দেওয়ার জন্য ছোট দোকানঘরগুলির দরজা খুলে অপেক্ষায় থাকতেন প্রেমা লেপচা, সাহানা ভুটিয়ারা। করোনার জেরে সেই ছবিটা একপলকে হারিয়ে গিয়েছে। পর্যটকহীন সেবকের মন্দির ও সংলগ্ন এলাকাজুড়ে এখন শুধু নিস্তব্ধতা। ভক্তদের জন্য মন্দিরের দ্বার এখনও বন্ধ রয়েছে। পর্যটকদেরও আনাগোনা নেই। তাই পুজোর সামগ্রী বিক্রি ছেড়ে শ্রমিকের কাজ খুঁজছেন চিন্ময় রায়। অন্য কোনও কাজ না পেয়ে একবেলা খাবারের রসদ জোগাড় করছেন দিলীপ সুব্বা।

শিলিগুড়ি থেকে মহানন্দা অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক। মেঘ-পাহাড়ের খেলার মাঝেই রাস্তার একপাশ দিয়ে যাওয়া তিস্তার স্রোতের আওয়াজ। শহরের ব্যস্ততার মাঝে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যাওয়ার মাঝেই শোনা যায় সেবকেশ্বরী মন্দিরের ঘণ্টা। এই রাস্তা ধরে সিকিম সহ বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার সময়ে সেবকেশ্বরীর আশীর্বাদ নিতে একবার হলেও থমকে যান সবাই। সারাবছর বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মানুষের ভিড়ে গমগম করত এলাকা। তাঁদের ওপরই নির্ভরশীল মন্দির সংলগ্ন আশপাশের এলাকার প্রায় ২০০ বাসিন্দা। করোনা পরিস্থিতিতে মন্দির কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখনও মন্দিরের দ্বার ভক্তদের জন্য খোলা হয়নি।

- Advertisement -

১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে পুজোর সামগ্রী বিক্রি করলেও বর্তমানে শ্রমিকের কাজ খুঁজছেন অঙ্কিত রায়। তিনি বলেন, একসময় দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের হাতে পুজোর সামগ্রী তুলে দিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতাম। কোনওভাবে দিনে ৩০০-৪০০ টাকা আয় হয়ে যেত। এখন আয় বলতে কিছু নেই। শ্রমিকের কাজ খুঁজে বেড়াচ্ছি। পুরোনো দিনের কথা মনে করছিলেন প্রিয়া বিশ্বকর্মা। তিনি বলেন, মন্দির থেকে বেরোনোর পরেই পর্যটকরা আমাদের দোকানে মোমো, থুকপার স্বাদ নিতে আসতেন। সিকিম সহ অন্য গন্তব্যে যাওয়ার পথেও পর্যটকরা গাড়ি থেকে মাকে প্রণাম করার পর আমাদের দোকানের সামনে এসে খাবার খাওয়ার ফাঁকেই অল্প জিরিয়ে নিতেন। এখন তাঁদের কারও দেখা নেই। কোনওভাবে একবেলা খাবার জোগাড় করতে পারলেই এখন অনেক। তবুও করোনেশন সেতু সহ প্রকৃতির স্বাদ নিতে আসা পর্যটকদের অপেক্ষায় এখনও ভুট্টা নিয়ে বসেন সাহানা ভুটিয়া। তিনি বলেন, অন্য কোনও পথ যে নেই। আগে একসময় কত মানুষ ভুট্টা কিনতেন। তখন কোনওভাবে সংসার চলে যেত। এক-দুটো ভুট্টা যদি বিক্রি হয়, সেই আশায় এখন সারাদিন ঠায় বসে থাকতে হয়।