হরষিত সিংহ, মালদা : দুর্গাপুজোর আগে থেকে বৃষ্টির জল জমে রয়েছে রাস্তায়। একবার মেশিন দিয়ে বের করা হলেও ফের জমেছে জল। প্রায় এক মাস ধরে এই নোংরা জল দিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। কালীপুজোর আগে ফের বৃষ্টি হওয়ায় সেই জলের পরিমাণ আরও বেড়ে গিয়েছে। রাস্তার উপর প্রায় ৫০ মিটার এলাকা জুড়ে জমে রয়েছে জল। আর এর ফলেই সমস্যায় পড়েছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ইংরেজবাজার ব্লকের যদুপুর-২ পঞ্চায়েতের মহেশপুর বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দারা।

ইংরেজবাজার পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের পরেই এই গ্রামটি। এলাকায় রাস্তা তৈরি হলেও নেই নিকাশি ব্যবস্থা। যার জেরে বৃষ্টির জল জমে থাকছে। রাস্তা ও পাশের একটি আমবাগান জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকায় এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। বিভিন্ন রোগ ছাড়ানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েত বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে দুর্গাপুজোর আগে একবার মেশিন দিয়ে জল বের করা হয়েছিল। কিন্তু পুনরায় জল জমলেও এখনও কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি পঞ্চায়েত বা ব্লক প্রশাসন। তবে এলাকার সমস্যা সমাধানে একটি ড্রেন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে।

- Advertisement -

যদুপুর-২ পঞ্চায়েতের প্রধান সাজ্জাত আলি জানান, আমরা পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে মেশিনের সাহায্যে জল বের করে দিয়েছিলাম। কিন্তু কালীপুজোর আগের বৃষ্টিতে ফের জল জমেছে। আমরা পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এলাকায় সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ড্রেন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। ড্রেন হয়ে গেলে জল জমার সমস্যা থেকে রেহাই পাবে এলাকার বাসিন্দারা। যদুপুর-২ পঞ্চায়েতের মহেশপুর বাগানপাড়া এলাকাটি ইংরেজবাজার পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন। যার জেরে এলাকায় ঘনবসতি তৈরি হয়েছে। রাস্তা তৈরি হলেও এলাকায় ড্রেন নেই। যার জেরে বৃষ্টির জল থেকে শুরু করে বাড়িতে ব্যবহৃত নোংরা জলও এলাকায় জমে থাকছে আর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। এই রাস্তা দিয়ে মহেশপুর সহ আশেপাশের একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। তাঁদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। রাস্তায় জল জমে থাকায় বাড়ির ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েছের একা রাস্তায় বের হতে দিচ্ছেন না পরিবারের লোকেরা।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিমা মণ্ডল জানান, প্রায় একমাস থেকে জল জমে আছে। এখন কিছুটা জল কমেছে। পঞ্চায়েত থেকে একবার মেশিন দিয়ে জল বের করেছিল, কিন্তু আবার জমে গিয়েছে। জমা জল থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের পোকা, এমনকি সাপও ঘুরে বেড়াচ্ছে জলে। পঞ্চায়েত সূত্রে খবর, ড্রেনের সমস্যা সমাধানে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করে এলাকায় নিকাশি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুটি পর্যায়ে কাজ করা হবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে কাজ শুরু হবে। ড্রেন তৈরি হলে আগামীতে জল জমার সমস্যা আর থাকবে না।