শিলিগুড়ি, ২৪ মার্চঃ কখনও নিজে, আবার কখনও দলীয় নেতত্বকে নিয়ে প্রচারে বেরোচ্ছেন বাম সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী সমন পাঠক। কিন্তু পাহাড়ে দলের যা পরিস্থিতি তাতে অতি বড়ো বামপন্থীও দার্জিলিং আসনে জয়ের স্বপ্ন দেখেন না। তবে আগামী পুরভোট ও মহকুমা পরিষদ নির্বাচনের আগে নিজেদের শক্তি যাচাই করে নেওয়াই এখন বামেদের প্রধান লক্ষ্য। দার্জিলিং জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক জীবেশ সরকার অবশ্য বলেন, লোকসভা ভোটে আমরা এবার জয়ের লক্ষ্যেই এগোচ্ছি। পাহাড়ে এবার আমাদের ভোট নিশ্চয়ই বাড়বে। আগামী পুরসভা ও মহকুমা পরিষদ ভোটেও আমরা মানুষের পূর্ণ সমর্থনই পাব। তবে এখন শুধু লোকসভা ভোট নিয়ে ভাবছি।

জিএনএলএফের হাত থেকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার হাতে ব্যাটন চলে যাওয়ার পরেই পাহাড়ে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায় সিপিএম। তাই ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে পাহাড়ে ভোট পায়নি সিপিএম। এবার পাহাড়ের মানুষ সিপিএমকে ভোট দেবেন, এমন আশাও করছেন না বাম নেতারা। বামেদের লক্ষ্য, সমতলে বিশেষত শিলিগুড়ি ও মহকুমা এলাকার ভোট ধরে রাখা। ২০১৫ সালে শিলিগুড়ি পুরনিগম নির্বাচন ও মহকুমা পরিষদ নির্বাচনে মানুষ যেভাবে তাঁদের ভোট দিয়েছিলেন, সেই ভোটব্যাংক চার বছর পরেও তাঁদের সঙ্গে কতটা রয়েছে, সেটা যাচাই করে নিতে চাইছে সিপিএম।

গত পুরভোটে সিপিএম শিলিগুড়ি পুর এলাকায় ২৩টি ওযার্ডে জয়ী হয়ে পুরনিগমে বোর্ড দখল করে। ধরাশায়ী হয়েছিল রাজ্যের শাসকদল। কয়েকমাস পরে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ ভোটেও আবার তৃণমূলকে পিছনে ফেলে বোর্ড দখল করে সিপিএম। একই বছরে পর পর দুটি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটেও শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয় সিপিএম। একইভাবে শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রেও কংগ্রেসের জয়ে একটা বড়ো ভৃমিকা ছিল সিপিএমের।

কিন্তু বেশ কয়েক বছর কেটে যাওয়ার পর দলের অবস্থান জানাও জরুরি বলে মনে করছে দল। সেই কারণে লোকসভা ভোটকে আগামী পুরভোট ও মহকুমা পরিষদ ভোটের ওয়ার্ম আপ ম্যাচ হিসেবেই দেখছে সিপিএম। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই বছরের শেষ কিংবা আগামী বছরের শুরুতেই পুরভোট ও তার কযেমাস পরেই মহকুমা পরিষদ ভোট হওয়ার কথা।