দেবদর্শন চন্দ  কোচবিহার : এনআরসির আতঙ্কে কোচবিহারে আধার কার্ড সংশোধন ও নতুন আধার কার্ড তৈরির জন্য লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ এই কাজ করাতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আধার কার্ড সংশোধনে লম্বা লাইন দেওয়াই শুধু নয়, শহরের রাস্তায় মশারি টাঙিয়ে রাত্রিবাস করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শহরের বিভিন্ন ব্যাংক ও মুখ্য ডাকঘরের সামনে রাত জাগছেন তাঁরা। তবে রাত জাগলেই কী? পরদিন সকালেও যে কাজ হবে- তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। আধার কার্ড নিয়ে বহু মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানির মুখে পড়তে হলেও প্রশাসনের তরফে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

চাকরির পরীক্ষা থেকে  শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন আধার কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। অসমে এনআরসির পর আধার কার্ড সংশোধনের প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। কোচবিহার শহরের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক ও মুখ্য ডাকঘরে আধার কার্ড সম্পর্কিত কাজ হচ্ছে। ওই সমস্ত কেন্দ্রে ভুল বানানের সংশোধন, ঠিকানা ও ফোন নম্বর পরিবর্তন হচ্ছে। জানা গিয়েছে, প্রচুর মানুষ আধার কার্ড সংশোধনের জন্য ভিড় জমালেও অনেক জায়গায় মাত্র একজন কর্মচারী সেই কাজ করছেন। আবার অনেক জায়গায় স্পষ্টই জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ১৫-২০ জনের বেশি কাজ করা হবে না। এতে আবেদনকারীরা সমস্যায় পড়ছেন।

কোচবিহারের মুখ্য ডাকঘরে আধার কার্ডের কাজ হচ্ছে। কিন্তু তাও দিনে ২০ জনের বেশি নয়। সেজন্য আধার কার্ড সংশোধন করাতে আগের দিন থেকে লাইন দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষকে মুখ্য ডাকঘরের সামনে মশারি খাটিয়ে রাস্তায় শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

টাপুরহাট থেকে মুখ্য ডাকঘরে পুরোনো আধার কার্ডে নাম সংশোধন করাতে এসেছিলেন অজিতকুমার সরকার। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত আটটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। লাইনে পিছিয়ে না পড়ার ভয়ে রাত থেকেই গেটের বাইরে মশারি খাটিয়ে বিছানা করে শুয়ে থাকতে হয়েছে। দিনে ২০ জনের বেশি কাজ না হওয়ায় এদিন অনেককেই ফিরে যেতে হয়েছে। শুক্রবার সকালে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বেশ কিছু মানুষ। তাঁদের প্রত্যেকেই জানান, আধার সংশোধন করতে রাত থেকেই ব্যাংকের সামনে থাকতে হয়েছে। সদর মহকুমাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, এবিষয়ে লিড ব্যাংকের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আধার কার্ড সম্পর্কিত কাজ আরও ব্যাংকে করানোর ব্যবস্থা করার কথা বলেছি। লিড ব্যাংকের ম্যানেজার কেশর সিং থাপা বলেন, আগে অল্প কিছু ব্যাংকে এই কাজ হলেও কিছুদিন আগে ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। কোচবিহারে অনেক ব্যাংকেই এই কাজ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকগুলির সঙ্গে কথা বলা হবে।