হোটেলে রোগী রেখে লক্ষ লক্ষ টাকা লুট, অভিযুক্ত একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল

203

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : অবৈধভাবে হোটেল ভাড়া নিয়ে সেখানে রোগীদের রেখে চিকিত্সার নামে প্রহসন চলছে। প্রধাননগর এলাকার একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে। আদৌ কি স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমতি নিয়ে হোটেলে রোগী রাখা হচ্ছে? যদি না হয়ে থাকে তাহলে কেন সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও উঠছে। শুধু সেখানে রোগী রাখাই নয়, লক্ষ লক্ষ টাকা বিল হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগায়োগ করা হলে কেউ ফোন ধরেনি। মেসেজেরও উত্তর দেয়নি। দার্জিলিংয়ের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রলয় আচার্য বলেন, আমরা বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছি। বিভিন্ন জায়গায় সারপ্রাইজ ভিজিট করা হচ্ছে। অন্যায়ভাবে কেউ হোটেলে নার্সিংহোম খুলে বসলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধাননগরে দুটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক হোটেল এবং লজ ভাড়া নিয়ে সেখানে করোনা সংক্রামিত রোগীদের রেখে চিকিৎসার অভিয়োগ উঠছে। পুরোনো প্রধাননগর থানা সংলগ্ন একাধিক হোটেল এবং লজ ভাড়া নিয়েছে ওই হাসপাতালগুলি। পাহাড় এবং সমতলের প্রচুর করোনা সংক্রামিত রোগী এই বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিত্সার জন্য আসছেন। যে সংক্রামিতদের উপসর্গ নেই বা খুবই কম উপসর্গ রয়েছে তাঁদের হোটেলে বা লজে রাখা হচ্ছে। উপসর্গযুক্ত রোগীদেরই শুধুমাত্র হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে ভর্তি করা হচ্ছে।

- Advertisement -

এমন একাধিক রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, খুব অসুস্থ কোনও রোগীকে এই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পরে দু-তিনদিন অন্তর্বিভাগে রাখা হচ্ছে। রোগী একটু সুস্থ হলেই তাঁকে হোটেলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার হোটেলে থাকাকালীন কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে তাঁকে অন্তর্বিভাগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অথচ ভাড়া করা হোটেলে না রয়েছে কোনও চিকিৎসার ব্যবস্থা, না রয়েছে অক্সিজেনের সরবরাহ। তবুও রোগীদের ৭-১০ দিন রেখে তারপর লালার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে মোটা টাকা নিয়ে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি কার্সিয়াংয়ের এক রোগীকে হোটেলে রেখেই ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বিল নিয়েছে প্রধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল। অথচ তাঁকে ওষুধ, ইনজেকশন তেমন কিছুই দেওয়া হয়নি। শুধু প্যারাসিটামল এবং তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় এভাবে পুরোপুরি বেআইনি কাজ করে চললেও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি প্রশাসন। চিকিৎসকদেরই একাংশ বলছেন, কোনও আইনেই এভাবে হোটেলে রোগী রেখে চিকিত্সা করা যায় না। তবে, স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমতি নিয়ে বিনে পয়সায় বিভিন্ন সংস্থা এভাবে আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করে উপসর্গহীন রোগী রেখে পরিষেবা দিতে পারে।