রং নম্বরের ফোনে পরিচয়, দৃষ্টিহীন সুশান্তর সঙ্গে ঘর বাঁধলেন শিবানী

ধূপগুড়ি : এ য়েন সেলুলয়েছের কাহিনীকেও হার মানায়। ফোনে রং নম্বর থেকে কাহিনীর সূত্রপাত। তারপর প্রেম, বিয়ে। সাধারণ প্রেম-বিয়ে হলে হয়তো এত হইচই হত না। কিন্তু পাত্র দৃষ্টিহীন। আর পাত্রী এলেন বিয়ে করতে পাত্রের বাড়িতে। তাই এত শোরগোল।

ধূপগুড়ির বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের খয়েবাড়ি এলাকার দৃষ্টিহীন যুবক সুশান্ত রায়ে সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা এলাকার শিবানী রায়। অক্টোবরে রং নম্বরে ফোনের সূত্রে দুজনের আলাপ হয়। প্রথমে বন্ধু হলেও ধীরে ধীরে তাঁরা একে অপরের প্রেমে পড়ে যান। ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন দুজনে। কিন্তু সেই ইচ্ছেতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সুশান্তের দৃষ্টিহীনতা। প্রেমে হাবুডুবু খাওয়ার পর শিবানী জানতে পারেন যে, সুশান্ত চোখে দেখতে পান না। জন্ম থেকেই তিনি দৃষ্টিহীন। কিন্তু ওই যে কথায় বলে লাভ ইজ ব্লাইন্ড। প্রেম তো নিজেই অন্ধ। তাই শিবানী সবকিছু ছেড়ে ভালোবাসাকে মর্যাদা দিতে রবিবার চলে আসেন প্রেমিক সুশান্ত রায়ের বাড়িতে। গত বুধবার তাঁরা অগ্নিকে সাক্ষী রেখে নতুন জীবন শুরু করলেন।

- Advertisement -

এই বিয়েতে খুশি সুশান্ত রায়ে পরিবার। সুশান্তর মা হাসোবালা রায় বলেন, তিন ছেলের মধ্যে বড় এবং ছোট ছেলে চোখে দেখতে পায় না। তাদের দেখাশোনা আমাকেই করতে হয়। এখন ছোট ছেলের দায়িত্ব একজনকে দিতে পেরে আমি খুশি। শিবানী রায় বলেন, হঠাৎ করে একদিন আমার মোবাইলে অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। সেই শুরু। কিছুদিন কথা বলার পর ভালো লেগে যায়। আমরা দুজনেই নিজেদের মনের কথা খুলে বলতে বলতে কখন যে পাশাপাশি চলে এসেছি নিজেরাও জানি না। চোখে দেখতে না পারলেও সুশান্ত যে মানুষ হিসেবে খুব ভালো তা জোর গলায় জানিয়ে দেন তিনি। সুশান্ত রায় বলেন, দুই চোখে সবকিছুই অন্ধকার। এই অবস্থায় কাউকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের বিষয়। রং নম্বরে একদিন হঠাৎ করে শিবানীর সঙ্গে ফোনালাপ হয়। তারপরেই শুরু হয় বন্ধুত্ব। শেষে দুজনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই।

সুশান্ত-শিবানীর প্রেম এখন এলাকায় সকলের মুখে মুখে ফিরছে। অনেকে বলছেন, এ হল ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র গিফট।