রাতে টোটোর ব্যাটারি চার্জে লো-ভোল্টেজ রায়গঞ্জে

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : শহরজুড়ে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের নেপথ্যে কি টোটো? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ময়দানে নেমে পড়তে চলেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তারা। রায়গঞ্জ পুর এলাকায় ব্যাটারিচালিত টোটো চলছে প্রায় ১০ হাজার। এই বিশাল সংখ্যক টোটোর ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে প্রতিদিন রাতে। এতেই রাতভর শহরজুড়ে বিদ্যুতের ঘাটতি হচ্ছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, রায়গঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মিটার বক্সে কারচুপি করে টোটোর ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘনঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজে জেরবার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই সমস্যা অস্বস্তি বাড়িয়েছে বিদু্য়ত্ বণ্টন কোম্পানির কর্তাদেরও।

বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রায়গঞ্জ শহরে চলাচল করা প্রায় ১০ হাজার টোটোর ব্যাটারি চার্জে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানতে পেরেছেন বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির কর্তারা। একশ্রেণির অসাধু চক্র মিটারে কারচুপি করে এই কাজ করছে। কিছু মানুষ নিজেদের বাড়ি ও গ্যারেজ ভাড়া দিয়ে টোটোচালকদের ব্যাটারি চার্জের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। এতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ প্রতিনিয়ত খরচ হচ্ছে। মিটারে কারচুপি থাকায় সেই বিদ্যুতের খরচ কোম্পানির কোষাগারে যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন কোম্পানির আধিকারিকরা। বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির উত্তর দিনাজপুর জেলার বাস্তুকার উৎপল দাস জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। গৃহস্থ বাড়ির নামে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলে সেই বিদ্যুৎ ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা যায় না। টোটোর ব্যাটারি চার্জ করে সেই সংযোগ কমার্শিয়াল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানো হবে। রায়গঞ্জ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে প্রায় ১০ হাজার টোটো চলাচল করে। প্রতিটি টোটোর ব্যাটারি চার্জের জন্য প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। একশ্রেণির মানুষ নিজেদের বাড়িতে গ্যারেজ তৈরি করে টোটো রাখার ব্যবস্থা করেছেন। সেখানে মিটারে কারচুপি করে টোটোর ব্যাটারি চার্জ করে টাকা আদায় করছেন। যা প্রাপ্য ছিল বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির।

- Advertisement -

বিদ্যুৎ দপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজন অনুপাতে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু টোটোর জন্য এখন বিপুল পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। একটি টোটোর ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। যদি রায়গঞ্জ শহরে একই সঙ্গে ১০ হাজার টোটো প্রতি রাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তাহলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হওয়াটাই স্বাভাবিক। মাস তিনেক পর পুজোর মরশুম। তখন বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এমনটা চলতে থাকলে লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের সমস্যা আরও বাড়বে। বিষয়টি নিয়ে এবার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি। টোটোচালকদের দাবি, মিটারে কারচুপি করে তাঁরা ব্যাটারি চার্জ করেন না। যদিও টোটো চালকদের এই যুক্তি মানতে নারাজ রায়গঞ্জের মানুষ। তাদের অভিযোগ, টোটোচালকদের জন্য প্রতিদিন রাতে লো-ভোল্টেজের সমস্যায় ভুগতে হয়।