শিলিগুড়ি : নার্সের অভাবে দীর্ঘ তিনমাস প্রসব করানো বন্ধ রয়েছে। এবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের মাতৃসদনে কিট না থাকার কারণে ম্যাক এলাইজা পরীক্ষা বন্ধ দুদিন ধরে।   ফলে গত দুদিনে জ্বরে আক্রান্ত প্রচুর রোগী মাতৃসদন থেকে ফিরে গিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, শিলিগুড়ি শহরে যেখানে প্রচুর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এখনও বিভিন্ন জায়গায় চিকিত্সাধীন, সেখানে প্রয়োজনীয় কিট কেন আগাম আনিয়ে রাখা হল না?

লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে  গোটা মাতৃসদনের ভবন নীল-সাদা রং করার কাজ প্রায় শেষ। অথচ অগাস্ট মাসের শেষদিক থেকে দীর্ঘ তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে গর্ভবতী মহিলাদের প্রসব করানো। আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন খারাপ রয়েছে প্রায় দুই বছর ধরে। মাতৃসদনের উপর প্রচুর গরিব রোগী নির্ভর করে থাকায় সেখানকার সরকারি পরিসেবায় এত গাফিলতি কেন পুরনিগমের, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস দুয়েক আগে ম্যাক এলাইজা পরীক্ষার জন্য মেশিন কেনা হয়। সবকিছু ভালোই চলছিল। সাধারণ মানুষ ম্যাক এলাইজা পরীক্ষার জন্য প্রতিদিন এখানে ভিড় জমাতেন। কিন্তু বুধবার থেকে ওই পরীক্ষা করার জন্য কিট শেষ হয়ে যাওযায় ম্যাক এলাইজা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

বৃষ্টি না হলেও শিলিগুড়িতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। প্রথমে পুরনিগমের স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্য ছিল, জমা জল থাকলেই সেখানে যেহেতু এডিস মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে সেই কারণে বৃষ্টি না কমলে ডেঙ্গুর কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু অনেকদিন ধরে বৃষ্টি না হলেও প্রচুর মানুষ এখনও শহরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন কোনোভাবেই যেন ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। যাঁরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভরতি হচ্ছেন তাঁদের বেশিরভাগেরই প্লেটলেট কমে যাওযায় রোগীর পরিজনের মনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে অনেকে আবার ডেঙ্গুর সঙ্গে অন্য গুরুতর অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন। এঁদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

ডেঙ্গু নির্ধারণের জন্য যে ম্যাক এলাইজা পরীক্ষা হয়, তা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের পাশাপাশি পুরনিগমের মাতৃসদনেও করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ শংকর ঘোষ বলেন, ৪০-৪৫ জনের রক্তের নমুনা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় কিট না থাকার কারণে তা পরীক্ষা করা যায়নি। তবে আমি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছি। উনি আশ্বাস দিয়েঠেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওযা হবে। মেয়র অশোক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুর দিন থেকেই ডেঙ্গু মোকাবিলায় কাজ করা হবে। গোটা বছরে তিনটি ধাপে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করবেন। বিভিন্ন সংগঠনকে এবার ডেঙ্গু মোকাবিলার কাজে যুক্ত করা হবে।