উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে মেশিনপত্র রক্ষণাবেক্ষণ হয় না নিয়মিত

358

শিলিগুড়ি : উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শুধু ভেন্টিলেটর নয়, কোনো মেশিনপত্র নিযমিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। কোনো সংস্থা মেশিনগুলি বসিয়ে চলে যাওয়ার পরে সেগুলিতে আর নজরদারি করে না কর্তৃপক্ষ। তার ফলেই শুক্রবার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-এ ভেন্টিলেটরে আগুন ধরেছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে সিসিইউ-এর যিনি দায়িত্বে রয়েছেন, সেই চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, ওই চিকিৎসক মেডিকেলে নিয়মিত না এসে নার্সিংহোমেই দিনভর ব্যস্ত থাকেন। শনিবার পূর্ত দপ্তরের (বিদ্যুৎ বিভাগ) আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রবিবারের মধ্যেই সিসিইউ-এর পুরো বিদ্যুৎ পরিসেবা খতিয়ে দেখে তা পুনরায় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এদিকে, মেডিকেলে সিসিইউ বন্ধ থাকায় অন্য কোনো জেলা থেকে যাতে সংকটজনক রোগীদের এখানে রেফার না করা হয় বিভিন্ন জেলা হাসপাতালকে সেই আবেদন জানানো হয়েছে।

শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মেডিকেলের সিসিইউ-তে ভেন্টিলেটরে আগুন লাগে। ওই ভেন্টিলেটর থেকে ধোঁয়া বের হয়ে গোটা সিসিইউ কার্যত গ্যাস চেম্বারের চেহারা নেয়। ধোঁয়ায় ছটফট করতে থাকা রোগীদের কোনোরকমে সিসিইউ থেকে বের করে নিয়ে আসেন স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর পরিজনরা। এই টানাহেঁচড়ার সময় ভেন্টিলেশন এবং অক্সিজেন মাস্ক খুলে যাওয়ায় এক রোগীর মৃত্যু হয। বাকি নয়জন রোগীকে পার্শ্ববর্তী বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই রোগীরা। এই ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। সিসিইউ-এর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিভাগে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, ভেন্টিলেটর মেশিন দীর্ঘক্ষণ ধরে গরম হয়েছে, পিছনের অংশ লাল হয়ে গিয়েছে কিন্তু তারপরেও কেন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন উঠছে। হাসপাতালেরই একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রাতে সিসিইউ-তে মেডিকেল অফিসার, প্রশিক্ষিত নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা ছিলেন না। যাঁরা ছিলেন তাঁরা সঠিকভাবে ওয়ার্ডে নজরদারি করছিলেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মেডিকেলের সিসিইউ-এর ইনচার্জ হিসাবে রয়েছেন অ্যানাস্থেসিওলজি বিভাগের প্রধান বিকাশ মণ্ডল। কিন্তু তিনি মেডিকেলে মাঝেমধ্যে আসেন বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

মেডিকেল সূত্রে খবর, এখানে মোট ১৫টি ভেন্টিলেটর মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ভেন্টিলেটর আগে থেকেই খারাপ ছিল। শুক্রবার সিসিইউ-তে আরও একটি ভেন্টিলেটর পুড়ে গিয়েছে। বাকিগুলির মধ্যে প্রসূতি বিভাগের হাই ডেফিসিয়েন্সি ইউনিটে দুটি, রিকভারি ওয়ার্ডে দুটি ভেন্টিলেটর রয়েছে। বাকি আটটি ভেন্টিলেটর রয়েছে সিসিইউ-তে। এই মেশিনগুলি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। শেষ কবে ভেন্টিলেটর সহ মেডিকেলের অন্যান্য যন্ত্রপাতির হালহকিকৎ খতিয়ে দেখা হয়েছিল তা বলতে পারেননি হাসপাতাল সুপার কৌশিক সমাজদারও। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পরে সিসিইউ-এর নয়জন রোগীকে ডিসান হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চলছে। ডিসান হাসপাতাল থেকে এক প্রেস বিবৃতিতে শনিবার জানানো হয়েছে, রোগীদের প্রত্যেকেই সংকটজনক অবস্থায় রয়েছেন। হাসপাতালে অত্যাধুনিক ভেন্টিলেটর মেশিন এবং উন্নত যন্ত্রপাতির দ্বারা চিকিৎসকরা সর্বক্ষণ রোগীদের উপরে নজর রাখছেন। প্রত্যেক রোগীকেই ভেন্টিলেশন দেওয়া হয়েছে। সুপার কৌশিক সমাজদার বলেন, আমরা সবদিকে এখন থেকে আরও বেশি নজরদারির ব্যবস্থা করব। এদিন পূর্ত দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (বিদ্যুৎ) কৌশিক দেব বলেন, আমরা সিসিইউ-এর বিদ্যুৎ পরিসেবা খতিয়ে দেখছি। রবিবার বা সোমবারের মধ্যে পুরো মেরামত করে তা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে।