খাঁকিতেও ‘মা’, পরীক্ষার্থীর শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে ডিউটিতে মহিলা পুলিশকর্মী

719

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: পরুক না তিনি খাঁকি উর্দি! মা তো মা-ই হন! তা না হলে ডিউটিতে গিয়ে কি আর কেউ অচেনা, অজানা কারও সন্তানকে স্তনপান করিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করেন? নাকি বুকে জড়িয়ে ডিউটি করতে করতে অবোধ শিশুর কান্না থামানোর চেষ্টা করেন? শনিবার মাতৃত্বসুলভ অপার অপত্যস্নেহে সেটাই করেছেন আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট থানায় কর্মরত মহিলা কনস্টেবল নুরিতন খাতুন। আর সেই ভিডিও স্যোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই কুর্ণিশ জানিয়েছেন নেটিজেনরা। শিশুবাড়ির খিদিরপুর রহমানিয়া হা‌ই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এদিন এ দৃশ্য দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর আলম আহমেদও। তিনি বলেন, ‘ওই মহিলা পুলিশকর্মীর ভূমিকায় আমরা অভিভূত। কোনও প্রশংসাই তাঁর জন্য যথেষ্ট নয়।’

মাদারিহাট থানার অন্তর্গত শিশুবাড়ির ওই হাই মাদ্রাসায় এদিন আইসিডিএস কর্মী নিয়োগের পরীক্ষা দিতে আসেন দুই শতাধিক পরীক্ষার্থী। এদের অনেকেরই শিশুসন্তান রয়েছে। তবে সন্তানরা মাদ্রাসার গেটের বাইরে বাবা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু এক পরীক্ষার্থীর সাত-আট মাস বয়সী শিশুকন্যার কান্না আর কিছুতেই থামছিল না। কান্না শুনে গেটের বাইরে উঁকি দেন নুরি। গেটের বাইরে বেরিয়ে বাবার কাছ থেকে শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়েন। এরপর আদর করে বুকে জড়িয়ে হেঁটে বেড়াতে থাকেন মাদ্রাসা চত্বরে।

- Advertisement -

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর আলম সাহেব বলেন, ‘একসময় বুকের দুধ পান করিয়ে বাচ্চাটির কান্না থামানোর চেষ্টা করেন তিনি। আমরা এরপর পরীক্ষার কক্ষ থেকে খুঁজে বের করি শিশুটির মাকে। মায়ের দুধ পান করানোর পর ফের শিশুটিকে বুকে টেনে নেন নুরি। শিশুটির মা ফের পরীক্ষা দিতে শুরু করেন।’

ফালাকাটার উমাচরণপুরের বাসিন্দা নুরিতনের বিয়ে হয়েছে মাদারিহাটের ইসলামাবাদ গ্রামে। স্বামী রেজাউল করিম মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রের সম্প্রসারক। তাদের সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। নুরিতন বলেন, ‘বাচ্চাটা খুব কাঁদছিল। প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে তাঁকে কোলে নিই। আসলে শিশুটিকে কাঁদতে দেখে ভীষণ খারাপ লাগছিল।’

মাদারিহাট থানার ওসি টি এন লামা বলেন, ‘বিষয়টি জেনে সত্যিই ভালো লেগেছে। তিনি পরীক্ষাকেন্দ্র সামলানোর কর্তব্য পালনের পাশাপাশি মা হিসেবেও কর্তব্য পালন করেছেন। তাঁর নিজেরও সন্তান রয়েছে। তাঁর কর্তব্যে তাঁর মাতৃত্বই প্রকাশিত হয়েছে।’