মেয়ের পড়াশোনার জন্য সবজি বিক্রি করছেন ক্ষৌরকার

সুভাষ বর্মন, পলাশবাড়ি: মেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছে। মেয়েকে পড়াতে হবে। এদিকে করোনা পরিস্থিতির জেরে নিজের সেলুনের ব্যবসা প্রায় চার মাস থেকে বন্ধ। তাই সংসারের খরচ ও মেয়েকে স্কুলে পড়ানোর জন্য সবজি বিক্রি করছেন মেজবিলের বাসিন্দা উজ্জ্বল শীল। ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের মেজবিল বাস স্টপের পাশেই সবজির দোকান খুলেছেন তিনি। তবে এখন সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় দিনে একশো-দেড়শো টাকার বেশি রোজগার হচ্ছে না তাঁর।

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মেজবিলে বাড়ি উজ্জ্বল শীলের। বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে ছিল তাঁর সেলুনের দোকান। এতদিন তাঁর বংশগত এই পেশায় সংসার চলে যেত। একমাত্র মেয়ে চুমকি শীল শিলবাড়িহাট হাইস্কুলে পড়াশোনা করে। সে এবার মাধ্যমিকে পাশ করেছে। এদিকে করোনা পরিস্থিতির জেরে প্রায় চার মাস থেকে ক্ষৌরকারের ব্যবসা ধাক্কা খেয়েছে। প্রথমদিকে সেলুন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। আনলক পর্ব শুরু হলে সেলুন খুলে যায়। কিন্তু উজ্জ্বল শীলের দোকানে আতঙ্কের জেরে এলাকার মানুষ সেরকম আসতেন না। সারাদিন দোকান খোলা থাকলেও একশো টাকাও উপার্জন হত না।

- Advertisement -

তিনি এই পরিস্থিতিতে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছিলেন। ধারদেনাও বেড়ে যায়। এদিকে মেয়ে মাধ্যমিক পাশ করায় তিনি আরও বিপাকে পড়েন। এখন সংসার কীভাবে চলবে, মেয়ের পড়াশোনার খরচ কীভাবে উপার্জন করবেন তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েন উজ্জ্বল শীল। তবে স্থানীয়দের কথায় এই সংকট কাটাতে তিনি বংশগত পেশা বদলে ফেলেন। সম্প্রতি বাধ্য হয়ে রাস্তার ধারে সবজির দোকান চালু করেন। সারাদিন সবজি বিক্রি করে যা উপার্জন হচ্ছে তা দিয়েই এখন তাঁর সংসার কোনওভাবে চলে যাচ্ছে। তিনি আবার মেয়ের পড়াশোনার জন্য উপার্জনের সামান্য কিছু টাকা সঞ্চয় করাও শুরু করেছেন।

উজ্জ্বল শীল বলেন, কয়েক বছর আগে আমার ভাই মারা যায়। তাই নিজের পাশাপাশি ভাইয়ের সংসারও চালাতে হচ্ছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রথমদিকে ভেঙে পড়ি। বাধ্য হয়ে বংশগত পেশা ছেড়ে দিই। এখন সবজি বিক্রি করে কোনওভাবে চলে যাচ্ছে। মেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছে। ওর পড়াশোনার জন্য রোজ কিছু টাকা সঞ্চয়ও করছি। কিন্তু বর্তমানে সবজির দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় উপার্জন কিছুটা কম হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা তপন বর্মন বলেন, ওই পরিবারের সংকটজনক পরিস্থিতি এলাকার সবাই জানেন। তাই আমরাও ওই দোকান থেকে সবজি ক্রয় করি। পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, ওই পরিবারের কথা কেউ আমাদের জানায়নি। খোঁজ নিচ্ছি। প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করব।