নাবালিকা ছাত্রীর বিয়ে রুখল মাদ্রাসার কন্যাশ্রীরা

202

রায়গঞ্জ: ব্লক প্রশাসন, পুলিশ ও চাইল্ড লাইনের সহযোগিতায় মাদ্রাসার কন্যাশ্রীর মেয়েরা নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে রুখল। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেলে রায়গঞ্জ ব্লকের ৮ নম্বর বাহিন অঞ্চলে। মালদা জেলায় কোনও এক পাত্রের সঙ্গে আগামী শুক্রবার বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল ওই ছাত্রীর। প্রশাসনের কাছে এমন খবর আসা মাত্রই মঙ্গলবার বিকেলে ব্লক প্রশাসন, পুলিশ ও চাইল্ড লাইনের সদস্যরা নাবালিকা ছাত্রীর বাড়িতে পৌঁছে যান। তাঁরা ছাত্রীর বাবার সঙ্গে আলোচনার পর স্বীকারোক্তি নেন, ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না। জানিয়ে দেন,আপাতত বিয়ে দেওয়া যাবে না। ওকে পড়াশোনা করার সুযোগ দিতে হবে বলে তারা জানান।

রায়গঞ্জ বিডিও অফিসের কন্যাশ্রী প্রকল্পের ম্যানেজার সুভাষ কুমার আরিয়া বলেন, ‘সোমবার শঙ্করপুর হাই  মাদ্রাসার কেটু ফর্মের ভেরিফিকেশন চলাকালীন কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যারা জানায় এক ছাত্রী বিয়ে করতে চাইছে না কিন্তু ওর বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন পরিবার। খুব শিঘ্রই বিয়ে হবে। ছাত্রীটি নাবালিকা। আমি চাইল্ড লাইনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলি। এরপর চাইল্ড লাইনের সদস্যরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এসে বিয়ে আটকে দেয়।’ চাইল্ড লাইনের সদস্য সুব্রত সাহা জানান, ছাত্রীটি নাবালিকা হওয়া সত্ত্বেও তার বিয়ে ঠিক করেছিল মা-বাবা। বিডিও অফিসের কন্যাশ্রী প্রকল্পের আধিকারিকেরা আমাদের জানালে আমরা পুলিশ নিয়ে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করি। মেয়ের বাবা মুচলেকা দিয়েছেন ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত তার বিয়ে দেবেন না।

- Advertisement -

শঙ্করপুর হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন, ‘কন্যাশ্রীর ভেরিফিকেশনের জন্য বিডিও অফিস থেকে অফিসাররা আসলে মাদ্রাসার কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যারা এক নাবালিকা ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি জানায়।শুনেছি তারাই নাকি চাইল্ড লাইনের সদস্যসের নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়েছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে শুনেছি মালদা থেকে এক পাত্রপক্ষ বিয়ের সম্বন্ধের জন্য দেখতে এসেছিল। অভিভাবকেরা এখন বিয়ে দিতেন না।  আমাদের মাদ্রাসার মোট পড়ুয়ার ৮৫ শতাংশ ছাত্রী। অষ্টম শ্রেণিতে উঠতে না উঠতে তাদের বিয়ে দিয়ে দেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে ৩০০ জন ফর্মফিলাপ করলে দেখা যায় ১০০ জনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তিনি দাবি করেন, অনেক সচেতনতা কর্মসূচি করার পরও সচেতন হচ্ছে না। ছাত্রীদের অমতে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন তারা। নিষেধ করলে শুনতে হচ্ছে কটুকথা। তারা নিজেদের স্বপক্ষে দারিদ্রতাকে তুলে ধরেন।’

রায়গঞ্জের বিশিষ্ট সমাজকর্মী কল্পনা রায় বলেন, ‘কম বয়সে বিবাহের কুফল ও কন্যার প্রকল্পের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন করতে হবে।’ দেবীনগর কৈলাস চন্দ্র রাধারানী বিদ্যাপীঠের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা রাখি বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের নিয়মিত সচেতন করি। পাশাপাশি কন্যাশ্রী প্রকল্পের কথাও তাদের কাছে তুলে ধরা হয়। এর ফলে নাবালিকা বিয়ে অনেকটাই রুখে দেওয়া গিয়েছে।’