অবৈধভাবে দুই নদী থেকে বালি পাথর তুলছে মাফিয়ারা, ক্ষোভ

59

হেমতাবাদ: প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে হেমতাবাদ বিধানসভা এলাকার কুলিক নদী ও বিনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি পাথর তুলে পাচার চলছে বলে অভিযোগ। হেমতাবাদ ব্লকের বাগরোল গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলিক নদীতে রীতিমতো আর্থ মুভার নামিয়ে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। নদীর চর থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে পুলিশের নাকা চেকিং থাকলেও বালি মাফিয়ারা দিব্যি বালি পাচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে তাদের দাবি। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।

ওই নদীটি সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকায় পুলিশ প্রশাসনের মধ্যেও এই নিয়ে কিছুটা ঢিলেঢালা মনোভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছে বালি মাফিয়ারা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে ওই এলাকার নদীঘাটে বালি তোলার লিজ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিনা নদী থেকে প্রতিদিন দেড়শোরও বেশি ট্রাকে বালি ও মাটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাটি কাটার আধুনিক মানের মেশিন নামিয়ে অবাধে বালি মাটি তোলা হচ্ছে। এমনকি নদীর পাড় এলাকাও বাদ দিচ্ছে না বালি মাফিয়ারা। এমন অবস্থায় বর্ষায় নদীর পাড় ভেঙে সংলগ্ন গ্রামগুলি ভেসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রামের বাসিন্দারা। তবে বাধা দিতে গেলেই বালি মাফিয়ারা ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

স্থানীয় এক বাসিন্দা ভুবন বর্মন জানান, নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে ১২ থেকে ১৫ টি গ্রাম ভেসে যাবে। নদীগর্ভে খনন করে অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীর দুপাশের কিছুটা অংশের পারে ধস নামতে শুরু করেছে। এভাবে চলতে থাকলে নদী গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। নদীতে স্নান করতে নেমে কিছুদিন আগেও গর্তে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। হেমতাবাদের বিডিও পৃথ্বীশ দাস জানান, শীঘ্রই ওই সমস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।