উত্তরবঙ্গ ব্যুরো : অসম-বাংলা সীমান্তের আলিপুরদুয়ার জেলায় কয়লা মাফিয়াচক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে জলপাইগুড়ি হয়ে ভিনরাজ্যে কয়লা পাচার হচ্ছে। এদিকে, কয়লাবোঝাই লরি আটকে কার্যত জোর করেই সিং ট্রান্সপোর্ট (এসটি)-এর স্টিকার লাগিয়ে গাড়িপ্রতি নয় হাজার টাকা তোলা আদায় চলছে। জেলা পুলিশকর্তাদের একাংশের মদতেই অবাধে কারবার চলছে বলে অভিযোগ। চক্রের মূল পান্ডা পাপ্পু সিং কলকাতায় বসে জেলা পুলিশের একাংশের মদতে গোটা কারবার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে বৈকুণ্ঠপুর বনবিভাগের অধীনে থাকা উত্তরবঙ্গের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের অভিযানে ফাটাপুকুর এলাকা থেকে কয়লাবোঝাই তিনটি ট্রাক উদ্ধার হয়। যদিও ট্রাকের তিন চালকই পালিয়ে যায়। কয়লা মাফিয়াচক্রের পান্ডারা টাস্ক ফোর্সের প্রধান তথা বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্তকে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।

কয়লা মাফিয়াচক্রের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর নাম শোনামাত্রই শুক্রবার আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী ফোন কেটে দেন। এসএমএস পাঠানোর পর তাঁর প্রতিক্রিয়া, বিষয়টি জানা নেই। এ ধরনের কোনো অবৈধ কারবার চললে পদক্ষেপ করা হবে। পুলিশের উত্তরবঙ্গের আইজি আনন্দ কুমার অবশ্য কোনো মন্তব্যই করতে চাননি। বন দপ্তরের উত্তরবঙ্গের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের প্রধান তথা বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয়বাবু বলেন, বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ইন্ডিয়ান ফরেস্ট অ্যাক্ট, ১৯২৭ অনুযাযী কয়লাবোঝাই গাড়িগুলিকে আটক করা হয়। তবে এ ঘটনায় আমি কয়লা মাফিয়াচক্রের হুমকির মুখে পড়েছি। আমাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্যত্র ট্রান্সফারের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তিনি উপরমহলকে জানিয়েছেন বলে সঞ্জয়বাবু জানান।

- Advertisement -

কয়লা পরিবহণকারী একাধিক সংস্থার সদস্যদের অভিযোগ, পাপ্পু সিংয়ে শাগরেদ হিসেবে অসম-বাংলা সীমান্তের বারবিশা ও বক্সিরহাটে বিনোদ শর্মা, রাজু সিং, বিষ্ণু সাহা, মনোজ, ভাইটি, দুলু মিয়াঁর মতো কয়লা মাফিয়াচক্রের পান্ডারা রীতিমতো ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। এছাড়া তোলাবাজদের তালিকায় পরোক্ষে বেশ কয়েজন রাঘববোয়ালের নামও উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, এদের অনেকেই নিজেদের নাম-ঠিকানা গোপন রেখে ছদ্মনামে অবৈধ কারবার চালাচ্ছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের নেতাদের একাংশের নাম ভাঙিয়ে এবং জেলা পুলিশের কর্তাদের একাংশ থেকে শুরু করে দু-একটি থানার আইসি, ওসিদের মদতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার তোলা আদায় চলছে বলে অভিযোগ। সবকিছু জেনেও পুলিশ-প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা কোনো পদক্ষেপ করছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলার জাতীয় সড়কে রীতিমতো নাকা চেকিং পয়েন্ট বসিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায় চলছে।

তবে এই নাকা এক জায়গায় বেশিদিন থাকছে না। কৌশল পালটে মাফিয়ারা কখনও জাতীয় সড়কের গুয়াবাড়ি টোলপ্লাজা, আবার কখনও নিমতি মোড়ে নাকা বসাচ্ছে। চালানে সিং ট্রান্সপোর্ট (এসটি)-এর স্টিকার সেঁটে দিয়ে কয়লাবোঝাই গাড়ি প্রতি নয় হাজার টাকা তোলা আদায় করছে। সবকিছু জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে।