ক্রিকেটকে দূষিত করো না, জাফর ইস্যুতে বার্তা কাইফের

কানপুর : ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরে অনুপ্রবেশ ধর্মীয় মেরুকরণের।

ওয়াসিম জাফরকে ঘিরে বিতর্ক যেন তারই ইঙ্গিতবাহী। তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে ধর্মীয় গোঁড়ামির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। গোটা ঘটনা নাড়িযে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটকেও। জাফরের পাশে দাঁড়িয়ে ইতিমধ্যে মেরুকরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন অনিল কুম্বলে, ইরফান পাঠানের মতো পরিচিত মুখ। তালিকায় এবার নতুন সংযোজন মহম্মদ কাইফ।

- Advertisement -

 

প্রাক্তন সতীর্থের পাশে দাঁড়িয়ে কাইফের মর্মস্পর্শী বার্তা, আমরা এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা বেঁচে রয়েছি যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যঙ্গবিদ্রুপ প্রতিনিয়ত দেশকে দ্বিধাবিভক্ত করে। সেখানে দাঁড়িয়ে জাফরের পক্ষে নিজের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন। কাইফ সঙ্গে যোগ করেছেন, ক্রিকেটারদের কাছে সম্মান, ঐক্যবোধ এইগুলিই সব। খেলার মাধ্যমে ক্রিকেটাররা তা অর্জন করে। আমার মনে আছে, বিশ্বকাপের সময় জন রাইট স্লোগান দিয়েছিলেন, নাউ অর নেভার! আসলে গোটা দলের মধ্যে লড়াইয়ের ঐক্যবোধ তৈরি করাই তাঁর উদ্দেশ ছিল। কিন্তু যখন এই মূল্যবোধগুলি ধাক্কা খায়, তখন মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

নিজের উদাহরণ টেনে কাইফ জানিয়েছেন, খারাপ সময়ে পাশে থেকে সতীর্থরা উৎসাহ জুগিয়েছেন। নিজের ধর্ম নিয়ে কখনও সতীর্থদের সামনে সংকোচে পড়তে হয়নি। পাশাপাশি নামাজ পড়ার প্রসঙ্গে কাইফের মন্তব্য, প্রার্থনা মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি শুনেছি, গ্রেম হিকের মতো ক্রিকেটার নিজের কিট সরিয়ে সাজঘরে মইন আলিকে নামাজ পড়ার জায়গা করে দিতেন। নামাজ পড়া কোনও অপরাধ নয়।

দলে মুসলিম ক্রিকেটারদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছেন জাফর এমনই অভিযোগ তোলেন উত্তরাখণ্ড ক্রিকেটের সচিব তথা বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সহ সভাপতি মাহিম ভার্মা। শান্ত, বিতর্কহীন সতীর্থের সঙ্গে এই ধর্মীয় মেরুকরণের মানসিকতা মেলাতে পারছেন না কাইফ। সাম্প্রদাযিক সম্প্রীতির কথা বলতে গিয়ে নিজের ছোটবেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ভারতের প্রাক্তন মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। তিনি বলেন, এলাহাবাদে যেখানে আমার বাড়ি তার খুব কাছেই ছিল হিন্দু পণ্ডিতদের পাড়া। আমরা তাদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলাধূলা করতাম। আমার চরিত্র ওই পরিবেশে গড়ে উঠেছে। ধর্ম, জাতপাত, আর্থিক বৈষম্যকে ভুলে আমরা ক্রিকেটকে আশ্রয় করে একসঙ্গে বাঁচতাম।

কাইফের কথায় উঠে এসেছে ভারতীয় সাজঘরের প্রসঙ্গও। বলেন, শচীন তেন্ডুলকার তাঁর কিটব্যাগে সাইবাবার ছবি রাখত, পুজো করত। ভিভিএসও (লক্ষ্মণ) খুব ইশ্বরবিশ্বাসী। জাহির (খান), ভাজ্জি (হরভজন সিং) প্রত্যেকের নিজের নিজের বিশ্বাস ছিল। কিন্তু আমাদের অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কিংবা কোচ জন রাইট সাজঘরে কোনও বিভেদকে ঠাঁই দেননি। বাংলা কিংবা পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, হিন্দু নাকি মুসলমান, শিখ না ক্রিশ্চান – এইভাবে কেউ কাউকে দেখত না। আমরা দল হিসেবে দেশের জন্য খেলতাম।

ভবিষ্যৎ ক্রিকেট প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কাইফের বার্তা, ক্রিকেটের সঙ্গে ধর্মকে গুলিয়ে না ফেলে নিজের হৃদয়ে কাছে পরিষ্কার থাকা উচিত। তাহলেই ক্রিকেট খেলাটা সুন্দর থাকবে, দূষিত হবে না।