‘এআইসিসি গুরুত্ব দেয় না প্রদেশকে’, অভিযোগ উঠল মহিলা কংগ্রেসের সভায়

114

কলকাতা: এআইসিসির নেতারা প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বকে সেভাবে গুরুত্ব দেয় না। তাঁরা চাননা বাঙালি সেন্টিমেন্টকে জাগিয়ে তুলে এরাজ্য পুনরায় কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরে আসুক। আর এরই জন্য শুধু বাংলা নয়, সমগ্র দেশে কংগ্রেস ক্ষয়িষ্ণু দলে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন এরাজ্যের একাধিক কংগ্রেস নেতৃত্ব। সোমবার মৌলালী যুব কেন্দ্রে বসেছিল মহিলা কংগ্রেসের বর্ধিত সাধারণ সভা। সেই সভায় বক্তাদের কথায় এই বিষয়টিই উঠে আসে। যদিও বক্তাদের সেই অভিযোগকে খণ্ডন করেন মহিলা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী সুস্মিতা দেব। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে এআইসিসির নেতৃত্বে ভালোভাবেই এরাজ্যের পাশে আছেন। যথা সময়ে তাঁরা যথাযথভাবে বাংলার প্রতি তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুস্মিতা দেব জানান, রাজ্যের জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশ মহিলা। তাই মহিলা ভোটকেই পাখির চোখ করতে হবে মহিলা কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের। তিনি রাজ্যের মহিলা কংগ্রেস নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে জানান, নেতৃত্বকে আগে তাঁদের টার্গেট ঠিক করতে হবে। তারপর নিতে হবে পরিকল্পনা। সেই সঙ্গে বিভিন্ন নির্বাচনে যাতে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় তারজন্য তিনি পিসিসি নেতৃত্বের সঙ্গে যেমন কথা বলবেন তেমনি কথা বলবেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বের সঙ্গে। তাঁর মতে, জাতিগত ভোটব্য়াংক নয়, মহিলা ভোটকেই এগিয়ে নিয়ে আসতে হবে কংগ্রেসের দিকে। সেই সঙ্গে তিনি একথাও জানিয়ে দেন যে উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী নন। তাই তিনি রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বকেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে সংগঠনকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তা তাঁদেরই দেখতে হবে বলে জানান।

- Advertisement -

সম্প্রতি এরাজ্যে সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা শাসকদল ও প্রশাসনের ওপর যে অভিযোগ তুলেছেন তার সবকটি বিজেপি শাসিত রাজ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলেও মনে করেন। তিনি সেই সঙ্গে বলেন, ‘কংগ্রেস এরাজ্যে ৪৪ বছর ধরে ক্ষমতায় নেই এর জন্য দায়ী কর্মীরা নন। নেতৃত্ব ঠিকভাবে তাঁদের গাইড করতে পারেননি তাই।’ সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘দলের মধ্যে যারা সুবিধাবাদী তারা যত তাড়াতাড়ি পারে দল ছেড়ে চলে যাক।’ সেইসঙ্গে প্রদেশ নেতৃত্বের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে এই সমস্ত সুবিধাবাদী নেতৃত্বকে নির্বাচনে টিকিট দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। বলেন, ‘নির্বাচনে জিতে এরা অন্য দলে চলে যাবে, আর কলঙ্কিত হতে হবে কংগ্রেসকে, তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’

সেই সঙ্গে এদিন তিনি দলের জেলা এবং ব্লক স্তরের মহিলা নেতৃত্বের প্রতি অনুরোধ জানান, তাঁরা যদি বুথ ভিত্তিক ডাটা তৈরি করে আন্দোলনে নামেন তাহলে নির্বাচনে কংগ্রেসের জয় অবশ্যম্ভাবী। এজন্য তাঁদের ‘ডোর টু ডোর’ প্রচার অভিযানে নামতে হবে। পাশাপাশি, তিনি আরও জানান, এ বছরই প্রথম নির্বাচনে তাঁরা মহিলাদের জন্য আলাদা ইস্তেহার বানাবেন। আর সেই ইস্তেহার হাতে নিয়েই মহিলা কংগ্রেস কর্মীরা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে মহিলাদের সে বিষয়ে অবহিত করবেন।

তিনি এদিনের অনুষ্ঠানে সুস্মিতা দেব ছাড়াও বক্তব্য রাখেন মহিলা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদিকা তথা এরাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিতা ডিসুজা। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস মুক্ত বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগোতে হবে মহিলা কংগ্রেস কর্মীদের। আর তাহলেই সোনার বাংলা গড়তে পারবে কংগ্রেস। যার মূল কান্ডারি হবেন মহিলারাই।’ এছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিকা কৃষ্ণা দেবনাথ, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিক দেবপ্রসাদ রায় সহ অন্যান্যরা।