বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি : ময়নাগুড়িতে ক্রমেই বাড়ছে জ্বরের প্রকোপ। রোগ এড়াতে এলাকায় জল জমতে না দেওয়া, বাড়ির আশপাশের আগাছা পরিষ্কার করার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন করে বাসিন্দা জ্বর নিযে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে হাজির হচ্ছেন। অথচ হাসপাতাল চত্বর আগাছা আর জঙ্গলে ছেয়ে গিয়েছে। হাসপাতাল ভবনের পেছনদিক ও পরিত্যক্ত ভাঙাচোরা আবাসনগুলি আগাছায় ভরতি হয়ে গিয়েছে। এককথায় হাসপাতালই এখন মশার আতুঁড়।

রোগীর আত্মীয়দের মত

- Advertisement -

রামশাই এলাকার বাসিন্দা অমল সেনের পুত্রবধূ গত কয়েকদিন ধরে এই হাসপাতালে ভরতি। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন হাসপাতালে যাতায়াত করছি। এখানে এভাবে জঙ্গল হয়ে থাকাটা সমস্যাজনক। অবিলম্বে আগাছা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কোচবিহারের রানিরহাট এলাকার বাসিন্দা বাসন্তী দাস আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে এসেছেন। তাঁর বক্তব্য, মশার উপদ্রবে দিনের বেলাই হাসপাতালে টেকা যায় না। সন্ধের পর উপদ্রব আরও বাড়ে। হাসপাতাল চত্বরের আগাছা পরিষ্কার না করলে সমস্যার সমাধান হবে না। একই কথা জানিয়েছেন আমগুড়ির বিবেক রায়। তিনি বলেন, স্ত্রী হাসপাতালে ভরতি থাকায় কয়েকদিন ধরে এখানেই রয়েছি। কিন্তু মশার জন্য থাকাটা মুশকিল হযে গিয়েছে। মশার জন্য কোথাও বসা বা দাঁড়ানো যায় না। মশা তাড়ানোর ধূপ জ্বেলে থাকতে হচ্ছে।

হাসপাতালের কথা

প্রতিবছর বর্ষায় এই সমস্যা হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। চলতি বছরে বর্ষা শুরুর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আগাছা পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু বর্ষা শুরু হতেই ফের আগাছায় ছেয়েছে হাসপাতাল চত্বর। স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য, আগাছা হলে শুধু মশা নয়, অন্য পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়ে যায়। যার ফলে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করুক, চাইছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে ময়নাগুড়ির ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ লাকি দেওয়ান বলেন, বর্ষার শুরুতে আমরা একবার এই আগাছা পরিষ্কার করিয়েছি। বর্ষার পর হাসপাতাল চত্বর ফের আগাছায় ভরে গিয়েছে।

আগাছা সাফাই হোক

ময়নাগুড়ির নাগরিকদের মতে, মশা দমনে বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কাজ চলছে। সচেতনতা বাড়ানোর কাজও জোরকদমে হচ্ছে। ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে এভাবে আগাছা ছেয়ে যাওয়াটা উদ্বেগজনক। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা। অন্যদিকে, বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ময়নাগুড়ির সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল মৈত্র বলেন, ময়নাগুড়ির ঘরে ঘরে জ্বর। হাসপাতাল চত্বরে যে আগাছা এবং জঙ্গল গজিয়েছে তা দ্রুত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। নয়তো সেখানে জন্মানো মশা রোগীদের এবং রোগীর পরিজনদের আক্রমণ করবে।

জনপ্রতিনিধিদের দাবি

এ প্রসঙ্গে খাগড়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সীমা রায় বলেন, ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের অধীনে প্রতিবছর আমরা হাসপাতাল চত্বরের আগাছা পরিষ্কার করি। কিন্তু এবার সেটা বন্ধ হয়ে আছে। তবে অন্য কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে এই কাজ করানো যায় কিনা তা আমরা ভেবে দেখছি। একই সুরে ময়নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সজল বিশ্বাস বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দেখছি। এই কাজকে অবশ্যই প্রাধান্য দেওয়া হবে। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের স্থানীয় সদস্য গোবিন্দ রায় বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে ময়নাগুড়ি এবং খাগড়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলব। হাসপাতাল চত্বরের আগাছা সাফাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।