জাতীয় মঞ্চে রাজ্যের প্রতিনিধি শিলিগুড়ির মৈনাক

শিলিগুড়ি : ইউনাইটেড নেশনস-এর অধীনস্থ ইউনাইটেড নেশনস ইউথ ইন্ডিয়া (ইউএন ইউথ ইন্ডিয়া)-তে রাজ্যের প্রতিনিধিত্বে শিলিগুড়ির মৈনাক দাশগুপ্ত। ইউএন-এর এই সাব-অর্গানাইজেশনে তিনিই রাজ্যের প্রথম প্রতিনিধি। যুবসমাজের মত, তাঁদের চিন্তাভাবনা, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সমস্যাকে যুবসমাজ কীভাবে দেখছে, সে বিষয়টি তুলে ধরতেই ইউএন-এর এই গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম। রাজ্যের প্রতিনিধি তথা ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত হওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই ইউএন ইউথ ইন্ডিয়া-এর তরফে পুরনিগমের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাসিন্দাকে জানানো হয়েছে। শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ষষ্ঠ সিমেস্টারের এই ছাত্র চলতি মাসে হতে চলা জাতীয় ক্লাইমেট বিষয়ক কনফারেন্সের প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত।

পড়াশোনার বাইরেও আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যেগুলি জানা প্রয়োজন। কলেজে পড়ার সময় এক ইউথ পার্লামেন্টে অংশগ্রহণ করে এই কথাটাই ডাবগ্রামের বাসিন্দা মৈনাকের মনে জেগেছিল। পরবর্তীতে ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার সময়ে সেই জিজ্ঞাসাই বাড়তে থাকে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে শুরু হয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানের খোঁজখবর। মৈনাক জানান, বিভিন্ন বিষয়ে জানার মধ্যেই আসে ইউএন-এর চর্চা। দিল্লিতে থাকা বন্ধুর মাধ্যমে ইউএন ইউথ ইন্ডিয়া-এর কনফারেন্সগুলিতে অংশগ্রহণের সূত্র পান। ২০২০ সালের মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া ইউএন-এর এই সাব-অর্গানাইজেশনে দুটি কনফারেন্সেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যেই ইন্টার্ন হিসেবে রাজ্যপ্রতি একজন করে ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তিনিও সে প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন। প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পর অনলাইন ইন্টারভিউয়ে উত্তীর্ণ হওয়ায় ইউএন ইউথ ইন্ডিয়া থেকে রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মেল চলতি সপ্তাহে তাঁর কাছে এসেছে।

- Advertisement -

মৈনাক জানান, চলতি মাসেই ইউএন-এর এই সাব-অর্গানাইজেশন জাতীয়স্তরের ক্লাইমেটের উপর কনফারেন্সের আয়োজন করছে। ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে এই সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা উত্তরবঙ্গ সহ সমগ্র রাজ্যের সংগঠনগুলিকে একত্রিত করছি। কনফারেন্সের উদ্দেশ্য হল ভারতবর্ষের সমস্ত রাজ্যের এ বিষয়ে কাজ করা সংগঠনগুলিকে একটি প্ল্যাটফর্মে এনে নির্দিষ্ট অ্যাজেন্ডা হিসেবে সমস্যা সমাধানের পথ বের করা। তাঁর কলেজের ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপিকা অদিতি সেনগুপ্ত বলেন, বইয়ে বাইরেও একটা বিরাট জগ‌ৎ রয়েছে। সেটাই আমরা সবসময় বোঝাই। মৈনাকের এই সাফল্যে আমরা খুশি। মৈনাকের বাবা তথা পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী জয়দেব দাশগুপ্ত বলেন, ছেলের এই সাফল্যে আমরা আনন্দিত।