ভবঘুরে, অসহায় ভিক্ষাজীবি থেকে শুরু করে পথকুকুরদের পাশে মাল থানার পুলিশ

293

বিদেশ বসু, মালবাজার: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনই সবথেকে কার্যকরী পদক্ষেপ। তাই লকডাউনের পথেই হেঁটেছে গোটা বিশ্ব। মালবাজারেও লকডাউন চলছে। লকডাউন শুরু হওয়ার পর ভবঘুরে, ভিক্ষাজীবি এবং পথকুকুরদের অন্ন সংস্থান নিয়ে আশঙ্কার বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। তবে অসহায় মানুষ থেকে শুরু করে পথকুকুরদের দুপুরবেলার খাবারের অভাব কিন্তু হয়নি। সৌজন্যে মাল থানার পুলিশ।

লকডাউনে শহরে চক্কর দিয়ে ভিক্ষাজীবি ভবঘুরে থেকে শুরু করে পথকুকুরদের ধারাবাহিকভাবে দুপুরবেলায় খাওয়ার বন্দোবস্ত করে নজির গড়েছে মাল থানার পুলিশ। এখন পরিস্থিতি এমনটা হয়েছে যে দুপুর হলেই পুলিশের আসার অপেক্ষায় ভবঘুরে, ভিক্ষাজীবি থেকে শুরু করে পথকুকুররাও বসে থাকে। পুলিশও তাদের  নিরাশ করছে না। শুধু তাই নয়। নানা কাজের ঝক্কি সামলে বিভিন্ন ধরনের খাবার পরিবেশন চলছে।

- Advertisement -

মাল শহরে ভবঘুরে ভিক্ষাজীবি এবং পথকুকুরদের সংখ্যা খুব একটা কম নয়। লকডাউন শুরু হওয়ার সময় মাল থানার পক্ষে ঘোষণা করা হয়, তারাই পথপুকুর ভিক্ষাজীবি এবং ভবঘুরেদের দুপুরের খাওয়ার ব্যবস্থা করবেন। তারপর থেকে পুলিশ আধিকারিক-কর্মীরা কিছু সমাজসেবীদের সহায়তায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে একাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভবঘুরে, অসহায় ভিক্ষাজীবি থেকে শুরু করে পথকুকুরদের পাশে মাল থানার পুলিশ| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কাজ চলছে। মেনুতেও থাকছে বৈচিত্র। অধিকাংশ দিনই আমিষ খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। ডিম, মাংস থেকে শুরু করে বাটা মাছ সবকিছুই থাকছে। খাবার পাবার আশায় ভবঘুরে এবং অসহায় মানুষদের সংখ্যাও বেড়েছে। এখন প্রতিদিন দুপুরবেলায় শহরের থানা মোড় ঘড়ি মোড় ইত্যাদি এলাকাগুলোতে অসহায় মানুষদের বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আর পাড়ার মোড়গুলিতে পথকুকুরের দল তো আছেই।

এক দুঃস্থ ব্যক্তি বললেন, আমার স্থায়ী কাজের ব্যবস্থা নেই। এখানে ওখানে ঘুরে কাজের সংস্থান করে খাবার পেতাম। লকডাউন শুরু হলে আশঙ্কায় পড়েছিলাম। পুলিশ আশঙ্কা দূর করেছে। দুপুরবেলায় খাবার পাচ্ছি। এখন তো মাছ-মাংসেরও স্বাদ পাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এরকম তো ভাবতেই পারিনি। পুলিশদের ধন্যবাদ জানাই।

শহরের যুবক কার্তিক কর্মকার, বাবলু দে, জুন গুপ্ত, রঞ্জন প্রসাদ প্রমুখ পরিবেশন, রান্না করা ইত্যাদি কাজে পুলিশকে সহযোগিতা করছেন। কার্তিকবাবু বলেন, আমাদের খাবারের হোটেলের ব্যবসা। হোটেল এখন বন্ধ আছে। তাই রান্নার কাজে সহযোগিতা করছি। ভালোই লাগছে। শহরের ব্যবসায়ী বাবলু দাস দীর্ঘদিন ধরে পথকুকুরদের খাওয়ান। বাবলুবাবু বলেন, লক ডাউন শুরু হতেই আমরাও ভেবেছিলাম পথ কুকুরদের কি হবে। পুলিশ পথকুকুরদেরও খাওয়ার সংস্থান করে প্রশংসাযোগ্য কাজ করেছে।

মাল থানার ওসি শুভাশিস চক্রবর্তী এই যাবতীয় কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শুভাশিসবাবু বলেন, যখন প্রথম দিকে অসহায় মানুষদের খাওয়ানোর কাজ শুরু করেছিলাম, তখন ১০০ জনের মতো হত। এখন সেই সংখ্যাটা তিনগুণ বেড়েছে। এছাড়া পথকুকুর তো আছেই। আমরা আপ্রাণ ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছি পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। সকলের সহযোগিতার জন্যই একাজ করা সম্ভব হচ্ছে। আমরা নাগরিকদের জন্য যাবতীয় পরিষেবা দিতে প্রস্তুত।