জলে ডুবেছে মালঞ্চপল্লি, চলছে নৌকা

হরষিত সিংহ, মালদা : শহরের পথে চলছে নৌকা। এমন ঘটনা নজরে পড়বে মালদা শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডে। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মালদা শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক এলাকায় জল জমেছে। কোথাও হাঁটুজল, আবার কোথাও জল জমেছে কোমর পর্যন্ত। রাস্তায় জল জমে থাকায় যান চলাচল বন্ধ। বাধ্য হয়ে নৌকা করেই যাতায়াত করছেন মালঞ্চপল্লি, নেতাজি কলোনি, বাপুজি কলোনির অলিগলির বাসিন্দারা। বহু মানুষের বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির জল। শহরের পাকাবাড়িতে থেকেও বহু মানুষ বৃষ্টির জলে ঘরছাড়া। কিছুদিনের জন্য পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন আশেপাশের ভাড়াবাড়িতে। তবে হঠাৎ করে ভাড়াবাড়ি পেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। করোনা পরিস্থিতিতে অনেকে বাড়িভাড়া দিতে রাজি হচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে আশেপাশে কোনও উঁচু জায়গায় তাঁবু তৈরি করে রয়েছে মালদা শহরের নেতাজি কলোনির বেশ কয়েকটি পরিবার।

মাঝে কিছুদিন বৃষ্টি বন্ধ থাকায় জমা জল অনেকটাই কমে গিয়েছিল মালঞ্চপল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায়। পুজোর আগে জলবন্দি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল থাকায় কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ফের জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ইংরেজবাজার পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক এলাকা। শুধু তিন নম্বর ওয়ার্ড নয়, শহরের দুই নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনি, সর্বমঙ্গলাপল্লি, বুড়াবুড়িতলা সহ একাধিক এলাকার রাস্তায় বৃষ্টির জল জমে রয়েছে। ফলে পুজোর মুখে ফের সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী কোনও সমাধান না হওয়ায় ইংরেজবাজার পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুর্গতরা। নেতাজি কলোনির বাসিন্দা গণেশ সরকার বলেন, গতবছর থেকে আমাদের এলাকায় জল জমছে। কাউন্সিলার থেকে শুরু করে পুরসভার কর্মীরা দেখে গিয়েছেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। এবছর আমরা প্রায় ছয় মাস থেকে জলবন্দি হয়ে রয়েছি। মাঝে জল কমে গিয়েছিল। বৃষ্টিতে আবার জলমগ্ন হয়ে পড়েছে এলাকা। পরিবার নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি।

- Advertisement -

প্রায় ছয় মাস ধরে মালঞ্চপল্লির একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ওই সমস্ত এলাকায় বহু বাড়ির বয়স্করা প্রথম থেকেই ঘরবন্দি হয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। খুব প্রয়োজন ছাড়া তাঁদের বাড়ি থেকে বের করছেন না পরিবারের লোকেরা। দীর্ঘদিন থেকেই জমে রয়েছে বৃষ্টির জল। ইতিমধ্যে সেই জল পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। সাপ সহ বিভিন্ন কীটপতঙ্গের উপদ্রব বেড়েছে এলাকায়। নোংরা জল থেকে চর্মরোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই অনেকে গামবুট পরে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন। এলাকায় জল জমে থাকলেও বিদায়ি কাউন্সিলার একবারের জন্য দুর্গতদের দেখতে আসেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জল জমে থাকায় পানীয় জল সংগ্রহ থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা। নিভা সরকার জানান, আমাদের একাধিকবার স্থানীয় কাউন্সিলার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও কাজ হয়নি। আমরা এখনও জলের মধ্যে রয়েছি। কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। আমাদের কেউ খোঁজখবর নিচ্ছে না।

ইতিমধ্যে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুরসভা বা জেলা প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ না করলে আগামীতে আন্দোলন বিক্ষোভে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন বাসিন্দারা। যদিও পুরসভার কর্তারা জানান, এলাকায় কয়েকটি নিকাশিনালা সংস্কার করা হচ্ছে। নতুন নিকাশিনালা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।