মালতীপুরে বিদ্যুৎ দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভে শতাধিক চাষি

273

সামসী: স্টেশন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে মালতীপুর বিদ্যুৎ দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন চাঁচল-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার শতাধিক চাষি। সোমবার দুপুর বারোটা থেকে বেলা দুটো পর্যন্ত ঘণ্টা দুয়েক মালতীপুর বিদ্যুৎ দপ্তরের এসএম (ভারপ্রাপ্ত) ফিরদৌসী জান্নাতকে ঘেরাও করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। ঘটনাস্থলে চাঁচল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে তাঁকে ঘেরাও মুক্ত করে।

এদিন বিক্ষোভে শামিল গঙ্গাদেবীর চাষি হারুন আল রশিদের অভিযোগ, ‘মাঠে আমার দু’টি মার্শাল রয়েছে। দশ বছর ধরে চলছে। কোনও বিল বাকি নেই। অথচ এসএম বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে মার্শালের মিটার কেটে নিয়ে এসেছেন। বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে পুলিশে মামলা দিয়েছেন এবং ৯ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। যা একেবারে বেআইনি। গঙ্গাদেবীর কামরুল হোদা নামে এক চাষির কাছ থেকে একইভাবে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। অথচ মার্শাল বন্ধ রয়েছে এখন।’

- Advertisement -

এদিকে, চন্দ্রপাড়ার ও মাসেদা খাতুন নামে এক মহিলার একই অভিযোগে মিটার খুলে নিয়ে এসেছেন। মাসেদা খাতুন বলেন, ‘আমার কোনও বিল বাকি নেই। আমি হুকিং বা বিদ্যুৎ চুরি করিনি। বিদ্যুৎ চুরির গল্পটি সম্পূর্ণ মনগড়া। এরকম আরও অনেকেরই মাঠ থেকে মার্শালের মিটার গায়ের জোরে খুলে নিয়ে চলে আসছেন। অন্যায়ভাবে এসএম মাঠ থেকে মার্শালের মিটার খুলে নিয়ে আসায় তার প্রতিবাদেই এদিন মালতীপুর বিদ্যুৎ দপ্তর ঘেরাও করা হয়।’

এদিন ঘটনাস্থলে যান জেলা কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন। এলাকার চাষিদের সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘এলাকার চাষিদের হয়রান করছেন এসএম। তিনি যাঁদের মার্শালের মিটার খুলে নিয়ে এসেছেন, তাঁরা কেউই হুকিং বা বিদ্যুৎ চুরির দায়ে অভিযুক্ত নন। মাঠে গিয়ে পুলিশি তদন্তও হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে আমিও মাঠে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনওরকম বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। অন্যায়ভাবে কৃষকদের ফাঁসানোর জন্য এসএমের বিরুদ্ধে বিডিও, এসডিও, ডিএম এমনকি বিদ্যুৎ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে। যাতে এসএমের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

মালতীপুরের এসএম(ভারপ্রাপ্ত) ফিরদৌসী জান্নাত জানান, চাষিদের লিখিতভাবে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে। বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।