মালদা: কোভিড হাসপাতাল থেকে ছুটি পেল আক্রান্ত ২৬

681

পুরাতন মালদা: এবার আইসিএমআরের গাইডলাইন ও নির্দেশিকা মেনে পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতাল থেকে ছাড়া হল ২৬ জন করোনা আক্রান্তকে। লালার রিপিট টেস্ট হওয়ার আগেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হল বলে জানা গিয়েছে।

তবে এক্ষেত্রে ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পর্ষদের নির্দেশ ও গাইডলাইন মেনেই তাঁদের ছাড়া হয়েছে বলে জানান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তাঁদের সাতদিন হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের শারীরিক অবস্থার রিপোর্ট লিপিবদ্ধ করে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে জানাবেন।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: করোনা জয় করে ঘরে ফিরলেন দুই দিনাজপুরের ৬ শ্রমিক

সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পুরাতন মালদার কোভিড-১৯ হাসপাতাল থেকে ২৬ জন আক্রান্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, করোনা নেগেটিভ না হলেও আইসিএমআরের গাইডলাইন মেনে তাঁদের ছাড়া হয়েছে। ওই গাইডলাইন অনুযায়ী, উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের ১০ দিন চিকিৎসা নজরদারিতে রাখার পর তাঁদের হোম কোয়ারান্টিনে রাখা যেতে পারে। যে ২৬ জন ছাড়া পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ইংরেজবাজারের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ১০ দিন আগে আক্রান্তদের লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। যদিও ২২ মে রাতে তাঁদের পজিটিভ রিপোর্ট আসে। আক্রান্তরা প্রত্যেকেই ভিনরাজ্য ফেরত।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভূষণ চক্রবর্তী বলেন, ‘আইসিএমআরের গাইডলাইন ও নির্দেশিকা মেনেই তাঁদের ছাড়া হয়েছে। ছাড়া পাওয়ার পর তাঁদের সাতদিন হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে। ওই সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের শারীরিক অবস্থা লিপিবদ্ধ করে সেই রিপোর্ট জমা দেবে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরকে। যদি কারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তবে তাঁদের পুনরায় হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হবে। এক্ষেত্রে আইসিএমআরের গাইডলাইন ও নির্দেশিকা মেনে চলছি আমরা।’

আরও পড়ুন: হলদিবাড়িতে ইদ উপলক্ষ্যে পুলিশের তরফে সংবর্ধনা

ভূষণ চক্রবর্তী আরও জানান, আইসিএমআরের যে গাইডলাইন রয়েছে তাতে নির্দেশ রয়েছে লালা সংগ্রহের দিন থেকে ১০ দিন পর্যন্ত আক্রান্তকে নজরদারিতে রাখতে হবে। যদিও জেলায় আক্রান্তদের লালা সংগ্রহের আগের আরও তিনদিন কোনও করোনা উপসর্গ ছিল কিনা, সেটাও স্বাস্থ্য দপ্তর নজরে রেখেছে বলে জানান তিনি। লালা সংগ্রহের পর ১০ দিনের মধ্যে যদি আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার অবনতি না হয় তবে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

মালদার ক্ষেত্রেও যাঁরা কোভিড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তাঁদের লালা সংগ্রহ করা হয়েছিল ১০ দিন আগেই। যেহেতু তাঁদের কোনওরকম উপসর্গ দেখা দেয়নি বা শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়নি তাই তাঁদের ছাড়া হল বলে জানিয়েছেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।

আরও পড়ুন: পথ দুর্ঘটনায় বাবা ও ৪ মাসের ছেলের মৃত্যু

জানা গিয়েছে, এতদিন রোগীদের চাপ কম থাকায় কোভিড হাসপাতালে কমপক্ষে ১০ দিন রাখা হচ্ছিল আক্রান্তদের। কিন্তু জেলায় সংক্রমণের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় হাসপাতলে চাপ বাড়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তাই উপসর্গহীনদের আপাতত ছেড়ে দিয়ে হোম কোয়ারান্টিনে রাখার পথ অনুসরণ করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।

যদিও এতে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, উপসর্গহীন হলেও যাঁরা ছাড়া পাচ্ছেন তাঁদের রিপোর্ট যেহেতু নেগেটিভ আসেনি তাই তাঁরা পুরোপুরি সুস্থ তা বলা যাবে না। এই অবস্থায় বাড়ি ফিরে গেলে সেখান থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, সব মিলিয়ে মালদায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১২৪। করোনা মুক্ত রোগীর সংখ্যা ২২। করোনা থাকলেও উপসর্গহীন ২৬ জনকে কোভিড হাসপাতাল থেকে ছাড়া হল।