নিম্নমুখী সংক্রমণ ও সুস্থতার হার সর্বোচ্চ, রাজ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে মালদা

2310

পুরাতন মালদা: রাজ্য তথা দেশজুড়ে যখন করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে তখন মালদা জেলায় সংক্রমণের গ্রাফ নিম্নমুখী। মৃত্যুহারও সবচেয়ে কম এই জেলাতেই। আবার সুস্থতার হারে রাজ্যের বাকি জেলাগুলিকে পিছনে ফেলে উপরের সারিতে রয়েছে এই জেলা। মোট সংক্রামিতের সংখ্যার নিরিখে রাজ্য অষ্টম স্থানে থাকলেও সুস্থতার হারে আশার আলো দেখাচ্ছে মালদা। গত দু’সপ্তাহে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। স্বভাবতই এমন পরিস্থিতিতে খানিকটা স্বস্তি ফিরেছে জেলার স্বাস্থ্য মহলে।

দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলির মতো হু হু করে করোনা সংক্রমণ বাড়ছিল মালদা জেলাতেও। সপ্তাহ দুয়েক আগেও দৈনিক শতাধিক সংক্রমণ ধরা পড়েছে এই জেলায়। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে সংক্রামিতদের সংখ্যায় দার্জিলিংয়ের পরই রয়েছে মালদা। সংক্রমণের নিরিখে গোটা রাজ্যে এই মূহূর্তে অষ্টম স্থানে রয়েছে মালদা। জেলাবাসীর কাছে এটা উদ্বেগের খবর হলেও স্বস্তি দিচ্ছে অন্য কয়েকটি বিষয়। তা হল সর্বাধিক সুস্থতার হার, সর্বনিম্ন মৃত্যুর হার এবং সর্বনিম্ন সংক্রমণের হার। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর দৈনিক রাজ্য ভিত্তিক যে পরিসংখ্যান পেশ করে, সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজ্যের বাকি জেলাগুলির তুলনায় সুস্থতার হারে ওপরের সারিতে রয়েছে মালদা।

- Advertisement -

স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বুধবার পর্যন্ত রাজ্যে সবচেয়ে বেশি মোট সংক্রামিত হয়েছেন কলকাতায়। সেখানে মোট সংক্রমণের সংখ্যা প্রায় ৪৫০০০ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৩৯০০০ জন। বর্তমানে সেখানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪১০০। কলকাতায় এ যাবৎ মৃত্যু হয়েছে ১৪৪৫ জনের। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলায় এখনও পর্যন্ত মোট সংক্রমণের সংখ্যা ৪০০০০ এরও বেশি। সুস্থ হয়েছেন ৩৪০০০ এরও বেশি। এই জেলায় বর্তমানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪৮০০। মৃত রোগীর সংখ্যা ৮৫২। এরপরই রয়েছে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর। সংক্রমণের নিরিখে এরপর রয়েছে দার্জিলিং জেলা। এখানে এ যাবৎ প্রায় ৫৯০০ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫১০০ জনেরও বেশি সংক্রামিত। জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৬ জনের। বর্তমানে এই জেলায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬৫০। সংক্রমণের নিরিখে দার্জিলিংয়ের পরই রয়েছে মালদা জেলা। এ যাবৎ জেলায় মোট ৫৩৬৫ জন সংক্রামিত হয়েছেন। যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫০০০ এরও বেশি সংক্রামিত।

রাজ্যের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের। জেলায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩০০। অর্থাৎ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, মালদা জেলায় সুস্থতার হার রাজ্যের বাকি জেলাগুলির তুলনায় সবচেয়ে বেশি। একইসঙ্গে গত দু’সপ্তাহে এই জেলায় সংক্রমণের গ্রাফ অনেকটাই নিম্নমুখী। মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিআরডিএলে আরটিপিসিআর টেস্টের সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়লেও সংক্রমণের হার অনেকটাই কম।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’সপ্তাহে পরীক্ষিত নমুনার দুই থেকে আড়াই শতাংশের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যা নিঃসন্দেহে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। জেলায় সুস্থতার হারও প্রায় ৯৫ শতাংশ। গোটা রাজ্যে সুস্থতার এমন দ্রুত হার আর অন্য কোনও জেলায় লক্ষ্য করা যায়নি। পাশের জেলা দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ বা নদিয়ায় সংক্রমণের হার বেশি হলেও মালদায় নিম্নমুখী সংক্রমণ অনেকটাই স্বস্তি দিচ্ছে জেলার স্বাস্থ্য কর্তাদের।

মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি অমিত কুমার দাঁ বলেন, ‘গত দু’সপ্তাহে জেলায় সংক্রমণের হার নিম্নমুখী। এমনকি সুস্থতার হার মালদা জেলাতে বেশি। যা নিঃসন্দেহে আশার বিষয়। দু’টি কারণে এমনটা হতে পারে। প্রথমত, করোনা ভাইরাসের ট্রান্সমিশন চেন ভাঙতে আমরা অনেকটা সফল হচ্ছি। দ্বিতীয়ত, করোনা ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তনের কারণে তার প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা কমেছে। তবে এর সঙ্গে স্যোশাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখা, মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবহারের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কার্যকারিতাও রয়েছে। আমাদের সতর্ক থাকতেই হবে।’ যদিও পরিসংখ্যান দেখে আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই বলে সাফ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তার।

মালদার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভূষণ চক্রবর্তী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পরিসংখ্যান দেখে এখনই নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না। আমরা ইতিমধ্যেই ৮৫০০০-এরও বেশি টেস্ট করেছি। আরও টেস্ট করতে হবে। এরপরেও আগামীদিনেও যদি সংক্রমণের গতি নিম্নমুখী থাকে তখন একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যেতে পারে। পাশের জেলাগুলিতেই যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে আমাদের সতর্ক থাকতেই হবে। আর এজন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের কোনও বিকল্প নেই।’ করোনা পরিস্থিতিতে যখন গোটা রাজ্যে একরকম নাভিশ্বাস অবস্থা তখন মালদা জেলার পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে আশার আলো দেখাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।