করোনা মোকাবিলায় মালদা হতে চলেছে মডেল জেলা

906
ফাইল ছবি।

পুরাতন মালদা: করোনা মোকাবিলায় মডেল জেলা হতে চলেছে মালদা জেলা। শনিবার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে এমনটাই খবর। করোনা মোকাবিলায় ইতিমধ্যে মালদা জেলার ভূমিকার প্রশংসা করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্য দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক মালদা জেলাকে মডেল জেলা হিসেবে তুলে ধরার প্রস্তাব দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গে করোনা মোকাবিলায় বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ডাক্তার সুশান্ত রায়ের সঙ্গে মালদার জেলাশাসক ও স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের বৈঠকেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মালদায় আসেন উত্তরবঙ্গে করোনা মোকাবিলার বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ডাঃ সুশান্ত রায়। ওই দিন বিকেলে জেলাশাসক ও জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে মালদা জেলায় করোনা মোকাবিলার সামগ্রিক ছবি তাঁর সামনে তুলে ধরেন স্বাস্থ্যকর্তারা। কীভাবে করোনা আক্রান্তদের কোয়ারান্টিন করা হচ্ছে, তাঁদের কীভাবে আইসোলেশন রাখা হচ্ছে এবং কীভাবে চিকিৎসা করা হচ্ছে- এই সমস্ত বিষয় বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন তাঁরা।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, একেবারে পঞ্চায়েত স্তর থেকে জেলাস্তর পর্যন্ত করোনা মোকাবিলার নীল নকশা বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করা হয় তাঁর কাছে। জেলার এমন ভূমিকার প্রশংসা করেন সুশান্ত রায়। এমনকি, বাকি জেলাগুলির ক্ষেত্রেও মালদা জেলাকে মডেল হিসেবে তোলার ব্যাপারে ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যের সচিব পর্যায়ের এক আধিকারিক মালদা জেলাকে করোনা মোকাবিলায় মডেল জেলা হিসেবে তুলে ধরার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন বলে শনিবার জানিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভূষণ চক্রবর্তী। তিনি বলেন,” জেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এবং পুলিশ করোনা মোকাবিলায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যেভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে তার প্রশংসা করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। করোনা মোকাবিলায় মালদা জেলাকে মডেল জেলা হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এই নিয়ে অতিসত্বর স্বাস্থ্য দফতরের তরফে নির্দেশিকা জারি হতে পারে।”

এদিন তিনি আরও জানান, একেবারে শুরু থেকেই মালদা জেলায় যেভাবে আলাদা করে কোভিড হাসপাতাল ও কোভিড কেয়ার সেন্টার তৈরি করা হয়েছে তা আর অন্য জেলাগুলিতেও প্রয়োগ করার ব্যাপারে আগ্রহী স্বাস্থ্য দফতর। এদিকে মালদা ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন সুশান্ত রায়। একদিকে করোনা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগ যখন প্রশংসিত হচ্ছে তখন অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিষেবা স্বাভাবিক করার বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চলেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। শনিবার মালদা জেলা সদর ও চাঁচোল মহকুমার ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভূষণ চক্রবর্তী । সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিশুর টিকাকরণের পাশাপাশি ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টিবির মতো রোগের চিকিৎসা পরিষেবা স্বাভাবিক করতে যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ভুষণ বাবু জানান, “গত কয়েক মাসে করোনা সংক্রমণ ঠেকানো ও আক্রান্তদের চিকিৎসা করাটাই ছিল স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ওই সময়ে বাকি স্বাস্থ্য পরিষেবা গুলি খানিকটা হলেও বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এখন থেকে সমস্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা আবার স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যেই আজকে বৈঠক করা হয়।”

অন্যদিকে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, করোনা উপসর্গ না থাকলে কোভিড হাসপাতালে আক্রান্তকে ভর্তি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। শুক্রবার পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতালে বেশ কয়েকজন আক্রান্তকে ভর্তি করা হয়ে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, উপসর্গহীনদের হাসপাতালে ভর্তি করার কোনও পরিকল্পনা না থাকলেও, বহু আক্রান্তের হোম কোয়ারান্টিনে থাকার মতো জায়গা না থাকায়সস তাদের অনেককেই কোভিড হাসপাতালে রাখা হচ্ছে। একই নিয়ম মেনে শনিবার ইংরেজবাজার পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের বালুচরের করোনা আক্রান্তকেও কোভিড হাসপাতালে রাখা হয়।