মালদার লক্ষণভোগ-ল্যাংড়া, সগর্বে বিদেশ যাত্রা

205

হরষিত সিংহ, মালদা: মালদার লক্ষণভোগ ও ল্যাংড়া প্রজাতির আম বিদেশে রপ্তানি করার উপযুক্ত। বিদেশে পাঠানোর জন্য যে সমস্ত গুণগত ও গঠনগত মানের প্রয়োজন সমস্ত কিছু রয়েছে মালদা জেলার এই দুই প্রজাতির আমে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু প্রজাতির আম বিদেশে রপ্তানির উপযুক্ত। তবে প্রথম ধাপে লক্ষণভোগ ও ল্যাংড়া আমকেই বেছে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের আইসিএআর- সিআইএসএইচ আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র ও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র মালদার কর্তারা।

গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে মালদা জেলায় আম সহ বিভিন্ন ফসল নিয়ে কাজ করছে কেন্দ্রীয় এই গবেষণা কেন্দ্র। ধীরে ধীরে মালদার আমের গুনগত মান কমে আসছে এমনকি ফলন কমছে। মালদার আম স্বাদে গন্ধে সুনাম কুড়ালেও বিদেশের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে না। রাজ্য সরকারের সাথে যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়ে এবার বিদেশে আম রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে মালদা গবেষণা ও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে তৈরী করা হচ্ছে ফুড প্রসেসিং কেন্দ্র। সেখানে জেলার কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদেশে আম পাঠানোর সমস্ত পরীক্ষা নিরিক্ষা এখানে করা হবে।

- Advertisement -

আগামি মার্চ মাসের মধ্যে কাজ ফুড প্রসেসিং কেন্দ্র তৈরীর কাজ শেষ হবে। মালদা গবেষণা ও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের কর্তারা জানান, এই বছর থেকে বিদেশে আম পাঠানোর জন্য প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। আগামি দুই এক বছরের মধ্যে বিদেশে আম পাঠানো সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে কিছু ভাল আম বাগান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সমস্ত কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আম চাষ করানো হবে।

সংস্থার কেন্দ্রীয় প্রিন্সিপ্যাল বিজ্ঞানি অভিজিৎ কর বলেন, ‘আমরা চাই আমের সঠিক গুণগতমান তৈরী করে বিদেশে পাঠাতে। কয়েক বছর সময় লাগবে। আমরা এই বছর থেকে প্রক্রিয়া শুরু করছি।’

এছাড়াও জেলার অনান্য আমের গুনগত মান বাড়াতে ও ফলন বৃদ্ধি করতে এই গবেষণা কেন্দ্র থেকে আম চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ৮০০ জন কৃষককে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আম প্রক্রিয়াকরণ নিয়েও নিয়মিত এখন থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হবে।