শিকলে বাঁধা ট্রলি, রোগী তুলতে টাকার দাবি মালদা মেডিকেলে

535

হরষিত সিংহ, মালদা : চরম তোলাবাজি শুরু হয়েছে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। তোলাবাজদের দাপটে পকেট ফাঁকা হচ্ছে রোগীর পরিবার-পরিজনদের। অভিযোগ, রোগী বহনের ট্রলি শিকল দিয়ে তালা বন্ধ করে আটকে রাখছেন মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একশ্রেণির অসাধু কর্মী। মুমূর্ষু রোগী থেকে শুরু করে মৃতদেহ ট্রলিতে তোলার আগেই দুতিনশো টাকা দিতে হচ্ছে হাসপাতালের কর্মীদের। টাকা দিলেই তবেই শিকলের তালা খুলে দেওয়া হচ্ছে। তারপরেও আটকে রাখা হয় রোগীর কাগজপত্র। ট্রলি ফিরিয়ে এনে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার পর কাগজ নিয়ে যেতে হচ্ছে রোগীর আত্মীয়-পরিজনদের। দীর্ঘদিন ধরেই মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এই বেআইনি কার্যকলাপ চলছে।

যদিও এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ট্রলিতে শিকল দেওয়ার কারণ, অনেক সময় রোগীর আত্মীয়রা ট্রলি বাইরে ফেলে চলে যান। আধিকাংশ সময় হাসপাতালের বাইরে ট্রলি নিয়ে গিয়ে আর ফিরিয়ে দিয়ে যান না। তাই ট্রলির পরিষেবা সুষ্ঠু রাখতে এই নিয়ম করা হয়েছে। সঙ্গে মৃতের কাগজ বা ছুটি পাওয়ার পর রোগীর কাগজ জমা রাখা হয়। ট্রলি ফেরত নিয়ে আসলেই সেই কাগজ দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যাই দাবি করুক না কেন, এই নিয়মকে ঢাল করে ট্রলি নিয়ে তোলাবাজি শুরু করেছেন বেশ কিছু অসাধু কর্মী। অথচ রোগীর পরিবারের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্য চিকিত্সা পরিষেবা পাওয়া গেলেও ট্রলি ভাড়া থেকে রোগীর দেখভালের জন্য কর্মীদের টাকা দিতে হচ্ছে। এর আগেও বহুবার মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বিভিন্ন খাতে রোগীর পরিবারের কাছে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে। চিকিৎসা পরিষেবা বিনামূল্য পাওয়া গেলেও রোগী ভর্তি থেকে ছাড়া না পাওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত আনুষাঙ্গিক খরচ বহন করতে হচ্ছে।

- Advertisement -

মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রলির ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও কোনও রোগী ছুটি পেলে বা কেউ মারা গেলে ট্রলিতে করে তাঁদের ওয়ার্ডের বাইরে নিয়ে আসা হয়। মালদা মেডিকেলে কোনও রোগী ভর্তি হওয়ার পর জরুরি বিভাগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করানো হয়। হাসপাতালে কর্মীদের একাংশ রোগীর আত্মীয়দের কাছে ট্রলির ভাড়া চান। যতক্ষণ না আত্মীয়রা টাকা দিতে রাজি হন, ততক্ষণ কর্মীরা রোগীকে ট্রলিতে তোলে না। অভিযোগ, জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে রোগীকে ট্রলিতে করে নিয়ে যেতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় কর্মীদের। খুব কম হলেও একশো টাকা। শেখ হাফিজুদ্দিন নামে এক রোগীর আত্মীয় জানান, আমার এক আত্মীয় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ওয়ার্ড থেকে নীচে হেঁটে আসতে পারবে না। তাই ট্রলি নিতে যাই। সেখানে আমার কাছে ২০০ টাকা চাওয়া হয়। অবশেষে দরাদরিতে ১০০ টাকায় রাজি হন।

মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্তারা জানান, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনও প্রমাণ নেই আমাদের কাছে। যদি কোনও রোগী বা তাঁদের কোনও আত্মীয় লিখিতভাবে অভিযোগ জানান, তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এইক্ষেত্রে যে ব্যক্তি আমাদের কাছে অভিযোগ জানাবেন, তাঁর নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে। মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অমিতকুমার দাঁ জানান, ট্রলির জন্য টাকা নেওয়ার কোনও অভিযোগ আমি এখনও পাইনি। যদি কেউ আমাদের কাছে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ জানান, তবে আমরা ব্যবস্থা নেব। মেডিকেলে আমাদের একটি কমিটি আছে। সেই কমিটির পক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।