চিকিৎসায় বাধা দারিদ্র্য, ৫ বছর ধরে শিকলবন্দি ছেলে

237

হরিশ্চন্দ্রপুর: আর্থিক অনটনের জেরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছেন না অসহায় বাবা। ছেলের মানসিক অসুখ দিন দিন বেড়েই চলেছে। খোলা অবস্থায় থাকলে এলাকায় উপদ্রব করছে ছেলে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে এনিয়ে প্রায়ই বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন বাবা। তাই বাধ্য হয়েই বাড়ির উঠোনে গাছে শিকল দিয়ে ছেলেকে বেঁধে রাখছেন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে একই চিত্র দেখছেন হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের একবালপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এই অমানবিক দৃশ্য দেখেও পাশে দাঁড়াননি কোনও জনপ্রতিনিধি। এমনকি, চিকিৎসার স্বার্থে জোটেনি সরকারি সাহায্যটুকুও। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তির আবেদন জানিয়েছে ওই যুবকের পরিবার।

ওই যুবকের নাম সেলিম আকতার (১৯)। সেলিমের দাদা হারুন রশিদ এবং মা লাইলি বিবিও মানসিক ভারসাম্যহীন। ঘরছাড়া তাঁরা। ছোট ভাই আসিফ সুস্থ। বাবা জাকির হোসেন আর ঠাকুরদা আব্দুল হক পেশায় দিনমজুর। আর তা দিয়েই চলে সংসার। করোনা পরিস্থিতিতে তাঁদের রোজগার প্রায় নেই বললেই চলে। সেলিমকে চিকিৎসা করানোর জন্যে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সাহায্য চাইলেও কোনও লাভ হয়নি। সকলেই তাঁদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পরিবারের লোকেদের।

- Advertisement -

সেলিমের বাবা জাকির হোসেন জানান, ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। জমি বিক্রি করে বিভিন্ন জায়গায় ছেলের চিকিৎসা করানো হয়েছে। তাতেও কোনও লাভ হয়নি। এদিকে, যখন তখন বাড়ি থেকে পালিয়ে যেত সেলিম। বাধ্য হয়েই ছেলেকে বেঁধে রাখছেন তিনি।

হরিশ্চন্দ্রপুর ২-এর বিডিও বিজয় গিরি জানান, ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। ছেলেটির যাতে দ্রুত চিকিৎসা করা হয় তার ব্যবস্থা প্রশাসনের তরফে করা হচ্ছে। এবিষয়ে জেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।