মুখ্যমন্ত্রীর অদূরদর্শিতার জন্যই উত্তরবঙ্গে করোনা সংক্রমণে শীর্ষে মালদা: খগেন মুর্মু

গাজোল: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অদূরদর্শিতা এবং তথ্য গোপনের জন্যই উত্তরবঙ্গের মধ্যে করোনা সংক্রমণে মালদা জেলা বর্তমানে প্রথম স্থানে রয়েছে। আগামী দিনে দেশের মধ্যে হয়ত প্রথম স্থান দখল করতে পারে পশ্চিমবঙ্গ। মঙ্গলবার গাজোলে এক দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে এসে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধলেন উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু।

এদিন গাজোলে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন তিনি। প্রথমেই গাজোল কদুবাড়ি মোড় এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে আত্মবলিদান দিবস কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আত্ম বলিদান দিবস কর্মসূচি পালন করা হয়।

- Advertisement -

এ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এক দেশ, এক প্রধান, এক বিধান এই দাবি নিয়ে কাশ্মীর গিয়েছিলেন তিনি। আজকের দিনে তিনি সেখানে খুন হন।দেশের জন্য তার সেই আত্ম বলিদানকে স্মরণ রাখতে এদিন সারা দেশজুড়ে পালন করা হচ্ছে আত্মবলিদান দিবস। তারই অঙ্গ হিসেবে গাজোলেও এদিন এই কর্মসূচি পালন করা হল।

এরপরই খগেনবাবু বেরিয়ে পড়েন জন সম্পর্ক অভিযানে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খোলা চিঠি নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যান তিনি। তাঁদের হাতে এই চিঠি তুলে দিয়ে প্রধামন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেন। এরপরই সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের মানুষের জন্য কি কি করেছেন, সমস্তই রয়েছে এই খোলা চিঠির মধ্যে।

তিনি আরও বলেন, কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের জন্য বহু কাজ করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তার প্রকল্পের লাভ ওঠাচ্ছেন সারাদেশের মানুষ। কিন্তু আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কিছু প্রকল্প এই রাজ্যে লাগু হতে দিচ্ছেন না। যার মধ্যে রয়েছে কিষাণ সম্মান যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প।

তিনি আরও বলেন, কিষাণ সম্মান যোজনার মাধ্যমে প্রতিটি কৃষক বছরে ৬ হাজার টাকা করে পাবেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের রাজ্যে এই প্রকল্পগুলিকে গ্রহণ করেনি মমতা দেবী। যার ফলে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।

খগেনবাবুর অভিযোগ, করোনা নিয়ে প্রথম থেকেই তথ্য গোপন করে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে করোনা সংক্রমনের হার এবং মৃত্যুর হার নিয়েও তথ্য গোপন করেছেন তিনি। করোনা থেকে বাঁচার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে সমস্ত সাবধানতা অবলম্বন করার কথা বারবার বলে আসছেন যেমন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, যতটা সম্ভব বাড়ির মধ্যে থাকা-এখানে সেগুলো কিছুই মানা হচ্ছে না।

তাঁর আরও অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে বারবার টালবাহানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকার শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য যখন ট্রেন দিচ্ছেন, তখন সেই ট্রেনকে তিনি বলছেন করোনা এক্সপ্রেস। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেই বৈঠকে যাননি আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

খগেনবাবুর অভিযোগ, যত দিন যাচ্ছে ততই করোনা সংক্রমনের হার বাড়ছে। উত্তরবঙ্গেও করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। উত্তরবঙ্গের মধ্যে মালদা রয়েছে প্রথম স্থানে। আমাদের আশঙ্কা, আগামী দিনে করোনা সংক্রমণে আমাদের রাজ্য হয়ত প্রথম স্থান দখল করতে পারে।