লাদেন বধে যুক্ত ম্যালিনয় প্রজাতির কুকুর আসছে গরুমারায়

659

কলকাতা ও লাটাগুড়ি : পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের নাম অনেকেই প্রথম শুনেছিলেন ওসামা বিন লাদেনের সৌজন্যে। ওই শহরে নিরাপদ আশ্রয়ে উঁচু পাঁচিলঘেরা বাড়িতে সপরিবারে লাদেন লুকিয়েছিলেন। সেখানেই মার্কিন নেভি নীল কমান্ডোবাহিনী অপারেশন চালায়। তার পোশাকি নাম ছিল অপারেশন নেপচুন স্ফিয়ার। ওই সময় আফগানিস্তানের জালালাবাদ এয়ার স্ট্রিপ থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে দুটি স্টেলথ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার গোপনে উড়ে গিয়েছিল অ্যাবোটাবাদের দিকে। সেই গোপন ও দুঃসাহসিক অভিযানে কমান্ডো বাহিনীর সঙ্গী হয়েছিল কায়রো। বেলজিয়ান ম্যালিনয় প্রজাতির কুকুর এই কায়রো। এবার সুন্দরবন ও গরুমারায় চোরাশিকারিদের ধরতে বন দপ্তরের সারমেয় বাহিনীতে যোগ দিচ্ছে দুটি ম্যালিনয় প্রজাতির কুকুর। একটির নাম সায়ানা, অন্যটি অরল্যান্ডো।

গরুমারায় বুনোদের নিরাপত্তা বন দপ্তরের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। দিনরাত এক করে নিরাপত্তা দেওয়ার পরও একের পর এক গরুমারার বন্যপ্রাণী বিশেষ করে গন্ডার চোরাশিকারিদের নিশানায় পড়েছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে গরুমারায় চোরাশিকারিদের হাতে জোড়া গন্ডারকে প্রাণ হারাতে হয়। ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর একইভাবে গরুমারার একটি গন্ডার মেরে চোরা শিকারিরা তার খড়্গ কেটে নিয়ে যায়। এরপর থেকে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থার মাঝেও মাঝেমধ্যে গরুমারার বিভিন্ন স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় সন্দেহভাজনদের দেখা মিলছিল। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাতে গিয়ে এই প্রশিক্ষিত কুকুরের প্রয়োজন হয়। এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়ায় রানি ও বক্সার জঙ্গলে করিম নামের দুটি প্রশিক্ষিত কুকুর রয়েছে। কিন্তু তাদের গরুমারা আনতে গিয়ে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। সেই সুযোগে চোরাশিকারিরা পালিয়ে যায়। এই বিষয়টি বুঝতে পেরে গরুমারার জন্য আলাদা একটি প্রশিক্ষিত কুকুরের প্রযোজনীয়তা উপলব্ধি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে ওরল্যান্ডো ও সায়ানের প্রশিক্ষণ চলছিল। অবশেষে তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে এই দুটি কুকুর কাজে যোগ দিতে চলেছে। রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে সায়না ও অরল্যান্ডো সেখান থেকে এ রাজ্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এরমধ্যে সায়না থাকবে সুন্দরবনে। অরল্যান্ডো যাবে গরুমারা জাতীয় উদ্যানে। এবারের ব্যাচে বিএসএফের কাছে ৬ মাস ধরে ৪০টি কুকুর প্রশিক্ষণ নিয়েছে। প্রশিক্ষণে সেরার শিরোপা পেয়েছে সায়ানা।

- Advertisement -

এতদিন জার্মান শেফার্ড বা অ্যালসেশিয়ান ও ল্যাব্রাডর প্রজাতির কুকুরকেই বন সুরক্ষায় কাজে লাগিয়েছে দপ্তর। কিন্তু সম্প্রতি বন দপ্তরের অফিসারদের ঝোঁক বেড়েছে ম্যালিনয়ের দিকে। রবিকান্ত জানান, ওয়ার্কিং ব্রিডের কুকুর তিন ধরনের হয়। স্নিফার, ট্র‌্যাকার ও অ্যাটাক ডগ। এর মধ্যে স্নিফারের কাজ গন্ধ শুঁকে বিস্ফোরক, মাদক ইত্যাদি খুঁজে বের করা। ট্র‌্যাকাররা সাধারণত ব্যক্তি বা অন্য প্রাণীর পিছু ধাওয়া করে ধরার ব্যাপারে ওস্তাদ। অ্যাটাক ডগ চড়া মেজাজের হয়। সাধারণত বন দপ্তরের অ্যাটাক ডগের প্রয়োজন হয় না। জার্মান শেফার্ড, ল্যাব্রাডর ও ম্যালিনয় প্রজাতির কুকুরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সব কাজেই ব্যবহার করা যায়। পরিবেশপ্রেমী শ্যামাপ্রসাদ পান্ডে ও নন্দুকুমার রায় জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন থেকেই গরুমারার জন্য প্রশিক্ষিত কুকুরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হয়। গরুমারায় বুনোদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হল বলে তাঁরা মনে করছেন।