সংস্কারের অভাবে ধ্বংস হচ্ছে মালোন ডাকবাংলো

104

হেমতাবাদ:  হেরিটেজ তকমা পাওয়া শতাব্দী প্রাচীন মালোন ডাকবাংলো সংস্কারের অভাবে ধ্বংস হতে চলেছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ ব্লকের নওদা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মালোন ডাকবাংলোটি রয়েছে‌। প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই এই স্থাপত্যটি এখন গবাদিপশুর বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ডাকবাংলোটির বর্তমান অবস্থা এতটাই করুণ যে সেটি ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়রা পুরোনো স্থাপত্যটি রক্ষা করতে বহুবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনও কাজ হয়নি। মালোন ডাকবাংলোটি একসময় ইংরেজদের প্রশাসনিক কার্যালয় ছিল। উত্তর দিনাজপুর জেলার ইতিহাসবিদরা এটিকে সংস্কারের আর্জি জানিয়েছেন।

ইতিহাস গবেষকরা জানিয়েছেন, এক সময়ে ওই এলাকায় নীল চাষ করা হত। সেসময়ে ইংরেজ সাহেবরা ডাকবাংলোটি নীলকুঠি হিসেবে ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে নীলচাষ বন্ধ হয়ে যায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলারা তখন বাংলোটিকে তাদের প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্যবহার করতেন। অবিভক্ত বাংলার প্রায় মাঝখানে থাকা বাংলোটির ভৌগোলিক অবস্থানের জন্যই প্রশাসনিক কাজকর্মে সুবিধা হত ইংরেজ সাহেবদের।

- Advertisement -

ইতিহাসের অধ্যাপক আনন্দ গোপাল ঘোষ বলেন, ‘হেরিটেজ তকমা পাওয়ার জন্য আমরা মালোন ডাকবাংলোর নাম তালিকায় রেখেছিলাম। পরবর্তীতে হেরিটেজ কমিটির বোর্ড ভেঙে নতুন কমিটি আসার পর কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে ডাকবাংলোটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। আমি যতদূর জানি, একসময় নীলকুঠি হিসেবেও ব্যবহৃত হতো ওই বাংলোটি। পরবর্তীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহেবদের কর্মস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল সেটি। সংস্কারের অভাবে এখন ডাকবাংলোর অনেক অংশই ভেঙে পড়েছে।’

ইতিহাস গবেষক বৃন্দাবন ঘোষ বলেন, ‘ওই ডাকবাংলোটি নিয়ে আমরা একাধিকবার জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের প্রতিনিধিরা আমার কাছ থেকে ওই স্থাপত্যটির নাম নিয়ে যান। আমি চাই জেলা প্রশাসন ঐতিহাসিক ডাকবাংলোটি সংস্কার করতে এগিয়ে আসুক।’

উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি তৃণমূল কংগ্রেসের কবিতা বর্মন বলেন, ‘ওই ডাকবাংলোটি সংস্কারের কাজ আমরা করছি।’